Dhaka 11:42 am, Tuesday, 12 May 2026

জুলাই সনদ আগে, নির্বাচন পরে: পীর সাহেব চরমোনাইয়ের আল্টিমেটাম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাই (মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম) “জুলাই সনদ”-কে সাংবিধানিক বা গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নির্বাচনের পূর্বেই এই সনদকে আইনি সুরক্ষা না দিলে জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলো অধরা থেকে যেতে পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই মাসের গণআন্দোলন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি নির্বাচনের আগেই এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে আইনি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়ে উদাসীন হতে পারে, যেমনটি অতীতে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর দেখা গিয়েছিল।

তিনি “আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন” নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শুধুমাত্র সংস্কার ও ন্যায়বিচার ছাড়া নির্বাচন দেশকে পুরনো অশুভ রাজনৈতিক আবর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।” তার মতে, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিলে আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা হারাবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমমনা দলগুলোকে (যেমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) নিয়ে বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়, যেখানে নভেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া, দলটি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি করে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পীর সাহেব চরমোনাইয়ের এই দাবি আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা ও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা।

জুলাই সনদ আগে, নির্বাচন পরে: পীর সাহেব চরমোনাইয়ের আল্টিমেটাম

আপডেটের সময় : 04:35:50 pm, Monday, 3 November 2025

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাই (মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম) “জুলাই সনদ”-কে সাংবিধানিক বা গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নির্বাচনের পূর্বেই এই সনদকে আইনি সুরক্ষা না দিলে জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলো অধরা থেকে যেতে পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই মাসের গণআন্দোলন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি নির্বাচনের আগেই এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে আইনি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়ে উদাসীন হতে পারে, যেমনটি অতীতে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর দেখা গিয়েছিল।

তিনি “আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন” নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শুধুমাত্র সংস্কার ও ন্যায়বিচার ছাড়া নির্বাচন দেশকে পুরনো অশুভ রাজনৈতিক আবর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।” তার মতে, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিলে আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা হারাবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমমনা দলগুলোকে (যেমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) নিয়ে বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়, যেখানে নভেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া, দলটি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি করে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পীর সাহেব চরমোনাইয়ের এই দাবি আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা ও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।