Dhaka 2:48 pm, Monday, 11 May 2026

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ চাই: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও চাই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। ’

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ আয়োজিত ‘দেশীয় বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। সবচেয়ে বড় আড়তের কাজ করে চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। ’ চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু জটিলতায় কাস্টমস ও ব্যবসায়িরা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকে। কাস্টমস জটিলতা দূর করতে মালামাল ছাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপরও মালামাল ছাড় করতে কারো কোনো অবহেলা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর মালামাল ছাড় দিয়ে থাকে। ’

গ্লোবাল টেলিভিশনের সিইও এবং এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নূরুল কাইয়ুম খান, শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী, নৌপরিবহন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক কমডোর (অব.) সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ.ই. মামুন, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আয়নুল ইসলাম। ব্যবসায়ী খায়রুল আলম সুজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দর এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাইট (অধিকার) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনাল ও আন্দারমানিক নদীর ওপর সেতু সির্মাণের কাজ চলছে। মোংলা বন্দরের আউটারবারে ড্রেজিং হয়েছে এবং ইনারবারে ড্রেজিং চলছে। ’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। মৃতপ্রায় মোংলা বন্দরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লাভের ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিছু করতে হবে-বাংলাদেশ এখন আর সে চিন্তায় নাই, বাস্তবায়নে আাছে। ’ ২০২৬-২৭ সালের দিকে বাংলাদেশকে অন্য ধরনের মেরিটাইম সেক্টর হিসেবে দেখতে পাব উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দর সিঙ্গাপুরের মতো হবে। ’

চট্টগ্রাম বন্দর করোনার সময়ে সরকারি তহবিলে ৩০ কোটি টাকা দিয়েছে-জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সে অর্থ সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা  দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চট্টগ্রাম বন্দর। অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্যপরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ড্রেজিং করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ায় কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সমীক্ষা হচ্ছে। নৌপথে কন্টেইনার নিয়ে আসার কথা ভাবতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা।

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ চাই: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

আপডেটের সময় : 11:09:12 am, Wednesday, 28 September 2022

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও চাই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। ’

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ আয়োজিত ‘দেশীয় বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। সবচেয়ে বড় আড়তের কাজ করে চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। ’ চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু জটিলতায় কাস্টমস ও ব্যবসায়িরা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকে। কাস্টমস জটিলতা দূর করতে মালামাল ছাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপরও মালামাল ছাড় করতে কারো কোনো অবহেলা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর মালামাল ছাড় দিয়ে থাকে। ’

গ্লোবাল টেলিভিশনের সিইও এবং এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নূরুল কাইয়ুম খান, শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী, নৌপরিবহন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক কমডোর (অব.) সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ.ই. মামুন, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আয়নুল ইসলাম। ব্যবসায়ী খায়রুল আলম সুজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দর এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাইট (অধিকার) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনাল ও আন্দারমানিক নদীর ওপর সেতু সির্মাণের কাজ চলছে। মোংলা বন্দরের আউটারবারে ড্রেজিং হয়েছে এবং ইনারবারে ড্রেজিং চলছে। ’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। মৃতপ্রায় মোংলা বন্দরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লাভের ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিছু করতে হবে-বাংলাদেশ এখন আর সে চিন্তায় নাই, বাস্তবায়নে আাছে। ’ ২০২৬-২৭ সালের দিকে বাংলাদেশকে অন্য ধরনের মেরিটাইম সেক্টর হিসেবে দেখতে পাব উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দর সিঙ্গাপুরের মতো হবে। ’

চট্টগ্রাম বন্দর করোনার সময়ে সরকারি তহবিলে ৩০ কোটি টাকা দিয়েছে-জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সে অর্থ সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা  দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চট্টগ্রাম বন্দর। অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্যপরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ড্রেজিং করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ায় কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সমীক্ষা হচ্ছে। নৌপথে কন্টেইনার নিয়ে আসার কথা ভাবতে হবে।