Dhaka 3:22 pm, Saturday, 9 May 2026

গলাচিপায় লকডাউনে তৎপর উপজেলা প্রশাসন

 পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে।

মরনঘাতি করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে গলাচিপা পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে চলছে।

লকডউন চলাকালিন সময়ে শহরের মধ্যে দু’একটি মোটরসাইকেল, কিছু ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। ঔষধ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, জনসাধারনকে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন মানতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্নস্থানে টহল দিতে দেখা গেছে। তারা হ্যান্ডমাইক নিয়ে লকডাউনে করনীয় সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করছেন।

পৌর ও উপজেলা শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে আইশৃংঙ্খলা বাহিনীকে সদা তৎপর থাকতে দেখা গেছে। উপজেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকেও টহল দিতে দেখা গেছে। দুপুরে কথা হয় গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মোসলেম গাজী নামে এক অটোরিক্সা চালকের সাথে। তিনি জানান, আমরা খেটে খাওয়া অসহায় সাধারণ মানুষ।

একদিন আয় না হলে না খেয়ে থাকতে হয়। ঘর থেকে বের না হলে আমার পরিবার- পরিজন নিয়ে কি খাবো। আমার বাসায় তো কেউ খাবার পৌঁছে দিবে না? তাই বের হয়েছি। আয়- রোজগার করতে না পারলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের কাউকেই বাহিরে বের হতে দেখা যাচ্ছে না।

গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহলে রয়েছে। মানুষকে কঠোর লকডাউন মানাতে ও সচেতন করতে প্রচার- প্রচারনা অব্যাহত আছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানসহ জেলও হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার মুঠোফোনে বলেন, কঠোর লকডাউন মানতে উপজেলা প্রশাসন ও আইশৃংঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। যারা লকডাউন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে প্রশাসন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল জরিমানা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যে কোন মূল্যে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন মানা হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকার ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের সকলকে নিরাপদ থাকতে সরকারের ঘোষণা মানা উচিৎ।

আমরা এই উপজেলায় লকডাউন যথাযথভাবে আমরা সবাই মেনে চলব। এ বিষয়ে পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেন, গলাচিপা পৌরবাসীকে সংক্রমন থেকে রক্ষা করতে বিভিন্নভাবে আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি। সরকারের দেয়া লকডাউন মেনে চলার জন্য পৌরবাসীকে অনুরোধ করছি।

জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাহিরে বের হবেন না। টহলরত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার এক হোটেল ব্যবসায়ীকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা।

গলাচিপায় লকডাউনে তৎপর উপজেলা প্রশাসন

আপডেটের সময় : 08:24:54 pm, Thursday, 1 July 2021

 পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে।

মরনঘাতি করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে গলাচিপা পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে চলছে।

লকডউন চলাকালিন সময়ে শহরের মধ্যে দু’একটি মোটরসাইকেল, কিছু ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। ঔষধ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, জনসাধারনকে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন মানতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্নস্থানে টহল দিতে দেখা গেছে। তারা হ্যান্ডমাইক নিয়ে লকডাউনে করনীয় সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করছেন।

পৌর ও উপজেলা শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে আইশৃংঙ্খলা বাহিনীকে সদা তৎপর থাকতে দেখা গেছে। উপজেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকেও টহল দিতে দেখা গেছে। দুপুরে কথা হয় গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মোসলেম গাজী নামে এক অটোরিক্সা চালকের সাথে। তিনি জানান, আমরা খেটে খাওয়া অসহায় সাধারণ মানুষ।

একদিন আয় না হলে না খেয়ে থাকতে হয়। ঘর থেকে বের না হলে আমার পরিবার- পরিজন নিয়ে কি খাবো। আমার বাসায় তো কেউ খাবার পৌঁছে দিবে না? তাই বের হয়েছি। আয়- রোজগার করতে না পারলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের কাউকেই বাহিরে বের হতে দেখা যাচ্ছে না।

গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহলে রয়েছে। মানুষকে কঠোর লকডাউন মানাতে ও সচেতন করতে প্রচার- প্রচারনা অব্যাহত আছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানসহ জেলও হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার মুঠোফোনে বলেন, কঠোর লকডাউন মানতে উপজেলা প্রশাসন ও আইশৃংঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। যারা লকডাউন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে প্রশাসন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল জরিমানা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যে কোন মূল্যে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন মানা হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকার ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের সকলকে নিরাপদ থাকতে সরকারের ঘোষণা মানা উচিৎ।

আমরা এই উপজেলায় লকডাউন যথাযথভাবে আমরা সবাই মেনে চলব। এ বিষয়ে পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেন, গলাচিপা পৌরবাসীকে সংক্রমন থেকে রক্ষা করতে বিভিন্নভাবে আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি। সরকারের দেয়া লকডাউন মেনে চলার জন্য পৌরবাসীকে অনুরোধ করছি।

জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাহিরে বের হবেন না। টহলরত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার এক হোটেল ব্যবসায়ীকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।