Dhaka 12:09 pm, Tuesday, 26 May 2026

বান্দরবানে রিসোর্টে অভিযান ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ

বান্দরবানের বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র সাইরু হিল রিসোর্টে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।

 

সোমবার ভ্যাট গোয়েন্দাদের একটি টিম এ অভিযান চালায়। এ সময় ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইরু হিল রিসোর্ট বান্দরবন শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক রোডে অবস্থিত। এর মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০১৫৭৭০৯৪-০৫০১। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল সাইরু রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

 

পাশাপাশি ভ্যাট গোয়েন্দার আরেকটি দল সাইরুর রাজধানী বনানীর প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালায়। কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর সফুরা টাওয়ারের ১৪ তলায় এর প্রধান কার্যালয়। উপপরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

 

 

প্রাথমিকভাবে দুটি অভিযানে ভ্যাট গোয়েন্দার দল ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। গোয়েন্দারা ২০১৮ থেকে রিসোর্টের প্রকৃত বিক্রয় তথ্য উদ্ধার এবং কমপিউটার থেকে তথ্যাদি জব্দ করেছে।এতে দেখা যায়, স্থানীয় বান্দরবন ভ্যাট সার্কেলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত বিক্রয় গোপন করেছে। যেমন সদ্যসমাপ্ত অক্টোবর ২০২০ কর মেয়াদের রিটার্নে (যা নভেম্বর ১৫ তারিখে দাখিলকৃত) তাদের হোটেলে সেবা বিক্রয় প্রদর্শন করেছে ১১.৩৯ লাখ টাকা। যার ওপর ১৫ শতাংশ হিসেবে আদর্শ হারে পরিশোধিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ১.৭০ লাখ টাকা এবং আদর্শ হার ব্যতীত বিক্রয় চার লাখ টাকা, যার ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে পরিশোধিত মূসক ৩০ হাজার টাকা।

 

 

উদ্ধার করা বিক্রয় তথ্য অনুসারে, ভ্যাট গোয়েন্দার দল দেখতে পান যে, ওই মাসে বিক্রয় হয় ১.২৯ কোটি টাকা, যার ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রদেয় মূসক ১৯.৪৭ লাখ টাকা অর্থাৎ মূসকসহ মোট বিক্রয় ১.৪৮ কোটি টাকা।

 

এই হিসাব অনুসারে, কেবল গত অক্টোবর মাসে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে প্রায় ১৭.৪৭ লাখ টাকা।

ভ্যাট গোয়েন্দারা অন্যান্য মাসেও অনুরূপ ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে। উদ্ধারকৃত তথ্যমতে, সাইরু রিসোর্ট গড়ে প্রতিমাসে ভ্যাট দিয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত বিক্রয় অনুসারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

 

ভ্যাট গোয়েন্দার দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সাইরু কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি; ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।

 

জব্দকৃত কাগজপত্র যাচাই ও আরো তদন্ত শেষে সাইরু রিসোর্টের বিরুদ্ধ ভ্যাট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।সাইরু রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রাংলাই ম্রো দাবি করেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি দল হঠাৎ সাইরু রিসোর্ট ভিজিট করে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছেন। ভ্যাটে অসঙ্গতির অভিযোগে ভ্যাটের কিছু কাগজপত্রও তারা নিয়ে গেছেন। তাৎক্ষণিক কোনো অসঙ্গতি তারা পায়নি। কোনো ধরনের জরিমানাও করা হয়নি।

সাইরু রিসোর্টসংশ্লিষ্ট ওয়াহিদ বাবুল বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম সাইরু রিসোর্ট পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের সময় তারা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা।

বান্দরবানে রিসোর্টে অভিযান ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ

আপডেটের সময় : 01:55:17 pm, Tuesday, 1 December 2020

বান্দরবানের বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র সাইরু হিল রিসোর্টে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।

 

সোমবার ভ্যাট গোয়েন্দাদের একটি টিম এ অভিযান চালায়। এ সময় ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইরু হিল রিসোর্ট বান্দরবন শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক রোডে অবস্থিত। এর মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০১৫৭৭০৯৪-০৫০১। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল সাইরু রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

 

পাশাপাশি ভ্যাট গোয়েন্দার আরেকটি দল সাইরুর রাজধানী বনানীর প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালায়। কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর সফুরা টাওয়ারের ১৪ তলায় এর প্রধান কার্যালয়। উপপরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

 

 

প্রাথমিকভাবে দুটি অভিযানে ভ্যাট গোয়েন্দার দল ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। গোয়েন্দারা ২০১৮ থেকে রিসোর্টের প্রকৃত বিক্রয় তথ্য উদ্ধার এবং কমপিউটার থেকে তথ্যাদি জব্দ করেছে।এতে দেখা যায়, স্থানীয় বান্দরবন ভ্যাট সার্কেলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত বিক্রয় গোপন করেছে। যেমন সদ্যসমাপ্ত অক্টোবর ২০২০ কর মেয়াদের রিটার্নে (যা নভেম্বর ১৫ তারিখে দাখিলকৃত) তাদের হোটেলে সেবা বিক্রয় প্রদর্শন করেছে ১১.৩৯ লাখ টাকা। যার ওপর ১৫ শতাংশ হিসেবে আদর্শ হারে পরিশোধিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ১.৭০ লাখ টাকা এবং আদর্শ হার ব্যতীত বিক্রয় চার লাখ টাকা, যার ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে পরিশোধিত মূসক ৩০ হাজার টাকা।

 

 

উদ্ধার করা বিক্রয় তথ্য অনুসারে, ভ্যাট গোয়েন্দার দল দেখতে পান যে, ওই মাসে বিক্রয় হয় ১.২৯ কোটি টাকা, যার ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রদেয় মূসক ১৯.৪৭ লাখ টাকা অর্থাৎ মূসকসহ মোট বিক্রয় ১.৪৮ কোটি টাকা।

 

এই হিসাব অনুসারে, কেবল গত অক্টোবর মাসে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে প্রায় ১৭.৪৭ লাখ টাকা।

ভ্যাট গোয়েন্দারা অন্যান্য মাসেও অনুরূপ ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে। উদ্ধারকৃত তথ্যমতে, সাইরু রিসোর্ট গড়ে প্রতিমাসে ভ্যাট দিয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত বিক্রয় অনুসারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

 

ভ্যাট গোয়েন্দার দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সাইরু কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি; ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।

 

জব্দকৃত কাগজপত্র যাচাই ও আরো তদন্ত শেষে সাইরু রিসোর্টের বিরুদ্ধ ভ্যাট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।সাইরু রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রাংলাই ম্রো দাবি করেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি দল হঠাৎ সাইরু রিসোর্ট ভিজিট করে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছেন। ভ্যাটে অসঙ্গতির অভিযোগে ভ্যাটের কিছু কাগজপত্রও তারা নিয়ে গেছেন। তাৎক্ষণিক কোনো অসঙ্গতি তারা পায়নি। কোনো ধরনের জরিমানাও করা হয়নি।

সাইরু রিসোর্টসংশ্লিষ্ট ওয়াহিদ বাবুল বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম সাইরু রিসোর্ট পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের সময় তারা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন।