পটুয়াখালী জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে গতকাল (১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫) ঘটে গেল এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায়, আদালতে হাজিরা দিতে এসে, সতিনের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম। শত শত বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের সামনে, আদালত চত্বরেই দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা এই হামলা চালান।
ভুক্তভোগী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার কুমরাই গ্রামের জিয়াউর রহমানের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সাথে সতেরো বছরের সংসার ও দুটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও জিয়াউর রহমান গোপনে নাসিমাকে বিয়ে করেন।
এ নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হলে এবং যৌতুকের দাবির প্রেক্ষিতে, ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে গত ১৮ই মে, ২০২৫ তারিখে, পটুয়াখালী আদালতে স্বামী ও সতিনসহ চার জনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা (সি আর, ৮৫০/২০২৫) দায়ের করেন।
আদালত চত্বরে হামলা ও পরিস্থিতি
উক্ত মামলায় গতকাল ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে, আদালতে হাজিরা দিতে আসেন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ। এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই তারা মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই, প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। আকস্মিক এই হামলায় ফাতেমা বেগম আদালত চত্বরেই পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হন। উপস্থিত আইনজীবীরা ও দায়িত্বরত পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
আদালতের মতো সুরক্ষিত ও বিচারিক স্থানে এমন প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় উপস্থিত বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম স্বাধীন বাংলা টিভিকে বলেন,
“আমি শুধু বিচার চাইতে এসেছিলাম। আর ওরা আমাকে, আদালতেই মেরে ফেলার চেষ্টা করল। আমি এর কঠিনতম বিচার চাই।”
হামলাকারী দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কিনা এবং এ ঘটনায় আদালত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা জানতে স্বাধীন বাংলা টিভি (Sadhin Bangla TV) কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।