জালের মালিকানা নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন একজন প্রকৃত জেলে, আর এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিপক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে এক দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর কার্ফারমা গ্রামের বাসিন্দা লালন ফকির (৭৫) নামের এক দরিদ্র জেলের জালে নিয়ে বিপাকে ফেলেছেন তাঁর প্রতিপক্ষরা। লালন ফকির সোনামিয়া হাওলাদারের ছেলে এবং ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে লালন ফকির জানান, কিছুদিন আগে তিনি উলানিয়া বন্দর থেকে সাধন বেপারীর দোকান থেকে জালটি নগদ টাকায় কেনেন এবং আসন্ন অবরোধ শেষে নদীতে নামার জন্য জালের রশি তৈরি করে রেখেছিলেন।
একই গ্রামের প্রতিপক্ষ আবু সালাম হাওলাদার ও অজেত হাওলাদার সেই জাল নিজেদের বলে দাবি করে গলাচিপা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, থানার এসআই মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে লালন ফকিরের ঘর থেকে ক্রয় করা জালটি জব্দ করেন এবং বর্তমানে তা চর কার্ফারমা গ্রামের নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। লালন ফকিরের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এই কাজ করছেন এবং তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
লালন ফকিরের স্ত্রী শাহিনুর বেগম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ। আবু সালাম ও অজেত হাওলাদার আমার স্বামীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশছাড়া করার পাঁয়তারা করছে।” অন্যদিকে, জাল বিক্রেতা সাধন বেপারী নিশ্চিত করেছেন যে লালন ফকির তার দোকান থেকে নগদ মূল্যে জালটি ক্রয় করেছেন এবং তিনি সেটির দোকানের চালানও দিয়েছেন।
তবে প্রতিপক্ষ আবু সালাম হাওলাদার ও অজেত হাওলাদার নিজেদের অবস্থানে অনড়। তারা বলেন, “আমাদের জাল এরকমই, আমরা মনে করি এটাই আমাদের জাল।” এ বিষয়ে গলাচিপা থানার এসআই মোহাম্মদ মিজান মিয়া জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জালটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, দুই পক্ষকে থানায় ডেকে সালিশির মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে জালটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। বোয়ালিয়া নৌবাহিনীর ট্রলারের মাঝি এমাদুল জানান, প্রায় আট মাস আগে আগুনমুখার ভারানির খাল থেকে নৌবাহিনী অজেত ও সালামের ট্রলার থেকে জাল নিয়ে যায়। জানা যায়, পরবর্তীতে কোরালিয়া পল্টনে সেই জালগুলো নৌবাহিনী পুড়িয়ে দেয়। রাঙ্গাবালী সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জহিরুল নবীও নৌবাহিনীর জাল পোড়ানোর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক মিয়া লালন ফকিরকে একজন প্রকৃত ও গরীব জেলে হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “লালন ফকিরের জীবন মাছ ধরে চলে। প্রতিপক্ষরা জাল নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়ায় সালিশির মাধ্যমে এই জালের প্রকৃত মালিকানা কার হাতে ন্যস্ত হয়। একজন জেলের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই জালটি দ্রুত তার কাছে ফিরে আসুক – এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা এই খবরের ওপর নজর রাখব।