সাংবাদিক তুহিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। গতকাল শনিবার বিকালে এক হৃদয়বিদারক অনুষ্ঠানে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই মানবিক সহায়তা শুধু অর্থ নয়, বরং শোকের সাগরে ডুবে যাওয়া পরিবারটির জন্য এক বুক আশার আলো।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম কর্মী ও নগরভবনের কর্মকর্তারা। সেখানে প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নিহত তুহিনের স্ত্রী ফরিদা বেগম মুক্তা এবং তাঁদের দুই অবুঝ শিশু তৌকির হোসেন (৫) ও আবদুল্লাহ আল ফাহিম (৩)-কে সান্ত্বনা দেন। এসময় তিনি তুহিনের এতিম শিশুদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিক তুহিন ছিলেন একজন নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি কলমের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতেন। তাঁর এমন নির্মম মৃত্যু আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হোক এবং হত্যাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাক।” তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে তুহিনের পরিবারের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও তিনি এই পরিবারের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
তুহিনের স্ত্রী মুক্তা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমরা বুঝতে পারছি, সমাজ ও প্রশাসন আমাদের একা ফেলে দেয়নি।”
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক বলেন, “তুহিন আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। গাজীপুর সিটি করপোরেশন তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যে মানবিকতা দেখিয়েছে, তা আমরা চিরদিন মনে রাখব।” একইসঙ্গে তিনি তুহিনের ব্যবহৃত মোবাইল দুটি উদ্ধারের ওপর জোর দেন, যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পরিবারটিকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।