Dhaka 9:50 pm, Saturday, 13 June 2026

সরকারি রাস্তা ভেঙে পাকা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, দুই শতাধিক মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা

লালমনিরহাটে সরকারি রাস্তা ভেঙে পাকা বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জনসাধারণ প্রতিবাদ করায় ক্ষমতার প্রভাব ও অর্থের দাপটে এলাকার নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা, মিথ্যা মামলা দেওয়া ও মিথ্যা মামলা করার হুমকী প্রদান করে ওই পরিবার এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবার।

শুক্রবার(২ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগীর বাড়ির উঠানে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক সাধারণ মানুষের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী রনবীর বলেন, বড়ুয়া গ্রামে বসবাসকারী বাসিন্দারা বড়ুয়ার এসএ রেকর্ডের ৯৪, ২২৫ ও ৮৪৭ দাগ এর মধ্যবর্তী রাস্তাটি শতবর্ষের অধিক সময় ধরে ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে কোন এক সময় অত্র এলাকার মৃত গোবিন্দ চন্দ্র পিতা: মৃত হলেশ্বর বর্মন ম্যাপে বর্ণিত সরকারি রাস্তার কিছু অংশ স্থানান্তর করে রাস্তাটি সোজা করে (মৌজা বড়ুয়া এর বিআরএস রেকর্ডের ২০৪ ২০৫, ২০৬ ও ২১১ দাগ এর মধ্যবর্তী রাস্তা) এবং ১৯৯০ সালের রেকর্ডে তার উত্তরাধিকারীগণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নকশা প্রস্তুতকারীর সাথে আতাত করে স্থানান্তর পরবর্তী রাস্তার অবশিষ্ট অংশ বিআরএস নকশা থেকে বিলীন করে দেয় যা দিয়ে গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে।

সম্প্রতি মৃত গোবিন্দ চন্দ্র এর পুত্র গোকুল রায় ও মুকুল রায় স্থানান্তর পরবর্তী অবশিষ্ট অংশ নিজেদের জমি উল্লেখ করে এবং কোন উপলক্ষ্য ছাড়াই গত ২৪ নভেম্বর জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার উপর প্যান্ডেল সাজানোয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মৌখিকভাবে অবগত করা হলে তারা এর কোন সমাধান করেননি। পরে সদর থানায় জানালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার জন্য জায়গা রেখে প্যান্ডেল করার নির্দেশনা দিলেও তারা সে নির্দেশনা অমান্য করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার প্রকাশ্য ঘোষনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সকলের সাথে আলোচনাক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত সকলকে জানায় ০৪ (চার) দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান চলবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্রই প্যান্ডেল সরিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে প্যান্ডেলের আড়ালে সরকারি রাস্তা কেটে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার উপর স্থায়ীভাবে পাকা ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে।এতে গ্রামের ২০ পরিবারের চলাচল বিগ্ন ঘটে।বিষয়টি নিয়ে একাধিক স্থানে জানিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে স্থানীয় ৩২০ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে । কিন্তু অভিযোগ দাখিলের পর সাক্ষরকারীদের বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলার হুমকি প্রদান করছে ঐ পরিবার। ফলে প্রতিনিয়ত এলাকার লোকজন ভয়ে বাড়ির বাহিরে রাত্রি যাপনসহ,নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।তবে গকুল রায় জানান,জোর পূর্বক দখল করা হয়নি।এটি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা বলেন,শুধু এই ঘটনা নয় ঐ পরিবার অন্যের জমির পাশে খাড়াভাবে পুকুর কাটা, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা, অর্থের দাপটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মিথ্যা মামলার হুমকিসহ নানা ভাবে তাদের প্রভাব প্রদর্শন করার চেষ্টা করে।তাই ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা।

সরকারি রাস্তা ভেঙে পাকা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, দুই শতাধিক মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা

আপডেটের সময় : 01:52:00 pm, Saturday, 3 December 2022

লালমনিরহাটে সরকারি রাস্তা ভেঙে পাকা বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জনসাধারণ প্রতিবাদ করায় ক্ষমতার প্রভাব ও অর্থের দাপটে এলাকার নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা, মিথ্যা মামলা দেওয়া ও মিথ্যা মামলা করার হুমকী প্রদান করে ওই পরিবার এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবার।

শুক্রবার(২ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগীর বাড়ির উঠানে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক সাধারণ মানুষের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী রনবীর বলেন, বড়ুয়া গ্রামে বসবাসকারী বাসিন্দারা বড়ুয়ার এসএ রেকর্ডের ৯৪, ২২৫ ও ৮৪৭ দাগ এর মধ্যবর্তী রাস্তাটি শতবর্ষের অধিক সময় ধরে ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে কোন এক সময় অত্র এলাকার মৃত গোবিন্দ চন্দ্র পিতা: মৃত হলেশ্বর বর্মন ম্যাপে বর্ণিত সরকারি রাস্তার কিছু অংশ স্থানান্তর করে রাস্তাটি সোজা করে (মৌজা বড়ুয়া এর বিআরএস রেকর্ডের ২০৪ ২০৫, ২০৬ ও ২১১ দাগ এর মধ্যবর্তী রাস্তা) এবং ১৯৯০ সালের রেকর্ডে তার উত্তরাধিকারীগণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নকশা প্রস্তুতকারীর সাথে আতাত করে স্থানান্তর পরবর্তী রাস্তার অবশিষ্ট অংশ বিআরএস নকশা থেকে বিলীন করে দেয় যা দিয়ে গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে।

সম্প্রতি মৃত গোবিন্দ চন্দ্র এর পুত্র গোকুল রায় ও মুকুল রায় স্থানান্তর পরবর্তী অবশিষ্ট অংশ নিজেদের জমি উল্লেখ করে এবং কোন উপলক্ষ্য ছাড়াই গত ২৪ নভেম্বর জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার উপর প্যান্ডেল সাজানোয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মৌখিকভাবে অবগত করা হলে তারা এর কোন সমাধান করেননি। পরে সদর থানায় জানালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার জন্য জায়গা রেখে প্যান্ডেল করার নির্দেশনা দিলেও তারা সে নির্দেশনা অমান্য করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার প্রকাশ্য ঘোষনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সকলের সাথে আলোচনাক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত সকলকে জানায় ০৪ (চার) দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান চলবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্রই প্যান্ডেল সরিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে প্যান্ডেলের আড়ালে সরকারি রাস্তা কেটে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার উপর স্থায়ীভাবে পাকা ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে।এতে গ্রামের ২০ পরিবারের চলাচল বিগ্ন ঘটে।বিষয়টি নিয়ে একাধিক স্থানে জানিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে স্থানীয় ৩২০ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে । কিন্তু অভিযোগ দাখিলের পর সাক্ষরকারীদের বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলার হুমকি প্রদান করছে ঐ পরিবার। ফলে প্রতিনিয়ত এলাকার লোকজন ভয়ে বাড়ির বাহিরে রাত্রি যাপনসহ,নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।তবে গকুল রায় জানান,জোর পূর্বক দখল করা হয়নি।এটি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা বলেন,শুধু এই ঘটনা নয় ঐ পরিবার অন্যের জমির পাশে খাড়াভাবে পুকুর কাটা, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা, অর্থের দাপটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মিথ্যা মামলার হুমকিসহ নানা ভাবে তাদের প্রভাব প্রদর্শন করার চেষ্টা করে।তাই ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার বিচার প্রত্যাশা করেছেন।