জেলা পরিষদে ৫৯ জন চেয়ারম্যানসহ নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পাঠ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) এ শপথ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথ পড়ানো হয়। জেলা পরিষদের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
তফসিল ঘোষিত ৬১টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৫৭টির নির্বাচন গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়।
ভোলা ও ফেনী জেলার সব কয়টি পদে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। অপরদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলার ভোট স্থগিত হয়।
অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আপনাদের দায়িত্ব সবার জন্য কাজ করা। আমি ক্ষমতায় আসার পর কে আমাকে ভোট দিল, তা দেখে উন্নয়ন করিনি। সার্বিকভাবে উন্নয়ন করেছি। প্রতিটি এলাকা যেন উন্নয়নের ছোঁয়া পায়, সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সরকার। আমাদের একটাই লক্ষ্য জনকল্যাণমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের উন্নয়ন যেন নিশ্চিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেকটি অঞ্চলে কী কী কাজ করা যায়, তা দেখতে হবে। ’
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলতেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। তিনি বলতেন, দেশের মাটি ও মানুষ দিয়েই তিনি দেশের উন্নতি করতে পারেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। ’
তাঁর সরকারের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমরা ২৭ জেলায় ১৩৫ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত চালু করে দিয়েছি। যেন মানুষ ন্যায় বিচার পায়। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাক- সেটা আমরা চাই না। আমরা স্যাটেলাইট চালু করে দিয়েছি। ডিজিটাল সিস্টেম চালু হয়ে গেছে। আমি সরকারে আসার পর সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। ’
তিনি বলেন, ‘আমার গ্রাম আমার শহর- সেই পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। প্রত্যেক গ্রাম যেন সুপেয় পানি পায় সেই ব্যবস্থা করা, কম্পিউটার ভিলেজ যেন নির্মাণ করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যে ইশতেহার দিই, তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখে না। আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশ বললে, একটু বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে থাকে। বাংলাদেশ আবার উন্নয়নের রোল মডেলও। ’
তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি, যেন আমাদের ফসলের ক্ষতি না হয়। ২১০০ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই পরিকল্পনাও কিন্তু আমরা করে দিয়ে গেলাম।