ভারতের গুজরাটে ঝুলন্ত সেতু ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ধসে পড়ার সময় সেতুটিতে আনুমানিক ৫০০ মানুষ ছিল।
খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানায়, সেতু ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইতোমধ্যে ৭১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পাঁচটি দল উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কাজ গভীর রাত পর্যন্ত চলবে। ঘটনাস্থলে একটি মেডিকেল টিমও রয়েছে। তবে আলো স্বল্পতায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
‘মরবি’ নামের ঝুলন্ত সেতুটি ১৫০ বছরের পুরোনো। এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত। গত সাত মাস ধরে মেরামতের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়। নববর্ষ উপলক্ষে মেরামত শেষে গত ২৬ অক্টোবর সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
গুজরাটের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ব্রিজেশ মের্জা বলেন, ‘গত সপ্তাহে সেতুটির মেরামত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আমরাও হতবাক। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সরকার এই ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী। ’
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে এনডিটিভিকে জানায়, ওরেভা নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে সেতুটির মেরামত করেছিল। তবে সেতুটি খোলার আগে তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পত্র নেয়নি। সরকার এ বিষয়ে সচেতন ছিল না।
দুর্ঘটনাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটে ছিলেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘মরবিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই বিষয়ে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পুরোদমে চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ’
সেতু ধসে যাওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি পার্টিকে দায়ী করছে দিল্লীর মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।
সেতু দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি দেওয়া হবে ৫০ হাজার রুপি। এ ছাড়া রাজ্য সরকারও হতাহত ব্যক্তিদের জন্য অর্থসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সহায়তা হিসেবে নিহত প্রত্যেকের পরিবার ৪ লাখ রুপি এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবার ৫০ হাজার রুপি করে পাবে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে সেতুটি ধসে পড়ে। ছটপূজা উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেতুটিতে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় ঝুলন্ত সেতুটি হঠাৎ ছিঁড়ে পড়ে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে আসার চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসায় তীরে আসতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল তাদের। কেউ কেউ নদীর মাঝে ভেঙে ঝুলতে থাকা সেতুর অংশ ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।