১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দ্বারা জাতিগত বাঙালি ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির দুই আইন প্রণেতা।
শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট ও রো খান্না মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এ অপরাধের কারণে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ারও আহবান জানান তারা।
এক টুইট বার্তায় রিপাবলিক পার্টির সদস্য চ্যাবট বলেন, ‘গণহত্যার শিকার লাখ লাখ মানুষের স্মৃতিকে মুছে ফেলতে আমরা দেব না।
গণহত্যার স্বীকৃতি ঐতিহাসিক রেকর্ডকে শক্তিশালী করে, আমেরিকানদের শিক্ষিত করে এবং অপরাধীরা জানবে, এই ধরনের অপরাধ সহ্য করা হবে না কিংবা ভুলে যাওয়া হবে না। ’
টুইট বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল তা ভুলে যাবার নয়। ওহিও ফাস্ট ডিস্ট্রিকের হিন্দু ভোটারদের সাহায্য নিয়ে আমি ও রো খান্না বাঙালি এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আইন প্রবর্তন করেছি। ’
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসন্যাল ডিস্ট্রিকের আইন প্রণেতা ডেমোক্রেট নেতা খান্না এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘গণহত্যা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ হত্যার শিকার হন, যেটি তখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল। হত্যার শিকার হওয়াদের ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মালম্বী ছিল। ’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে, অন্যান্যগুলোর মতো এটিও একটি গণহত্যা- যেমনটা হোলোকাস্টে ঘটেছে। সেখানে অনেক কিছুই ঘটেছিল তবে গণহত্যাটিকে এখনও স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ’
মার্কিন দুই প্রণেতার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশি সম্প্রদায়।
১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় সেলিম রেজা নুরের পরিবারের সদস্যরা। প্রস্তাবটি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। এই বাংলাদেশি বলেন, ‘গণহত্যাটি অবশেষে মার্কিন কংগ্রেসে স্বীকৃতি পাচ্ছে। ’
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন এইচআরসিবিএমের নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ৫১তম বার্ষিকীতে তাদের স্মরণ করা হবে যারা কিনা ৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে খুন হয়েছিল।