ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডে সংযুক্ত করেছে রাশিয়া। বর্তমানে অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধের মাত্রা বেড়েছে। পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে অঞ্চলগুলোতে দ্রুত
স্থিতিশীল অবস্থা ফেরানো হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, নিজেদের ভূখণ্ডে সংযুক্ত চারটি অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন পুতিন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি না দেয়া হলেও স্বঘোষিত গণভোটের পর গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনকে নিজেদের ভূখণ্ডে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেন। লুহানস্ক ও খেরসনের বিভিন্ন গ্রাম ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণের খবরের মধ্যেই এই খবর সামনে আসে।
এ দিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘যে কোনো হারানো ভূখণ্ড রাশিয়া তাদের দখলে নেবে। ’
সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। অঞ্চলগুলো চিরকাল রাশিয়ার সঙ্গে থাকবে। ’
আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, ‘সংযুক্ত অঞ্চলগুলোতে দ্রুত স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। শান্তভাবে এগুলোর বিকাশ করা হবে। ’
তবে পুতিনের সঙ্গে একমত পোষণ করেননি স্টেট ডুমা প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান আন্দ্রে কার্তোপোলভ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে যা ঘটছে সে সম্পর্কে মিথ্যা বলা বন্ধ করা দরকার। রাশিয়ানরা বোকা নয়, তারা সব জানে। ’
এ দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্ব উভয় দিকেই সাফল্য অর্জন করছে।
লুহানস্কে ইউক্রেনীয় সরকার দ্বারা নিযুক্ত গভর্নর সেরহি হাইদাই বুধবার বিবিসিকে বলেন, এই অঞ্চলের ছয়টি গ্রাম নতুন করে আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সেরহি হাইদাইয়ের মন্তব্যের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলেনস্কি জানান, খেরসনের দক্ষিণাঞ্চলের আরও তিনটি গ্রাম মুক্ত করা হয়েছে।
এ দিকে পুতিন দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ার দখলের আনুষ্ঠানিকতার জন্য একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন, যেটি যুদ্ধের প্রথম দিক থেকে রাশিয়ান সৈন্যদের দখলে রয়েছে।
রাশিয়া বলছে, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক স্থাপনাটি নতুন একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হবে। তবে ইউক্রেনের পারমাণবিক অপারেটররা এই পদক্ষেপটিকে অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।