মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ক্ষমতাশীল দেশের আপত্তি সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক প্লাস। বুধবার (৫ অক্টোবর) অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এক বৈঠকে সিদ্ধান্তটি নেয় জোটটি।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, তেল উৎপাদন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল কমাতে সম্মত হয়েছে তারা। এই পদক্ষেপটি নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
তেলের উৎপাদন কমানোর এই সিদ্ধান্তে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
মাস তিনেক আগে বিশ্বজুড়ে মন্দা, ক্রমবর্ধমান মার্কিন সুদের হার এবং ডলারের মান বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমেছিল। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে নেমে ৯০ ডলারে এসেছিল।
বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেন, ‘ওপেক প্লাস বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার লক্ষণগুলো নিয়ে কাজ করছে যা তেলের চাহিদা দুর্বল করতে পারে এবং দাম কমাতে পারে। ’
দিনে ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের প্রায় দুই শতাংশ বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তারা বলছে, ওপেক প্লাসের বৈঠকের পরেই দাম বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এক দশমিক ৫ শতাংশ।
তেলের উৎপাদন না কমানোর জন্য আগে থেকেই ওপেক প্লাসকে বলে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। ঘোষণার পরই তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক জোট রাষ্ট্রগুলোর সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউজ। প্রতিক্রিয়ায় বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নভেম্বরে রিজার্ভ থেকে এক কোটি ব্যারেল তেল বের করার জন্য জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশ দিবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কারিন জিন-পিয়েরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওপেক প্লাসের কাটছাঁটের এই পদক্ষেপ অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ’
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস বলছে, গত শুক্রবার থেকে তেলের দাম পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তেল উৎপাদনের খবরে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯৫ ডলার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে। রাশিয়ার তেল আয় রোধ করার জন্য পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।