ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহর এত দিন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এখন ইউক্রেনের সেনাদের পাল্টা আক্রমণের মুখে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছে রুশ
বাহিনী। সবশেষ শহরটির একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম থেকে রুশ বাহিনীকে হটিয়ে এটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, খেরসনের ড্যাভিডিভ ব্রিড গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গ্রামেও রুশ বাহিনীকে হটিয়েছে তারা।
কিয়েভের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ৩৫তম মেরিন ব্রিগেডের সৈন্যরা ড্যাভিডিভ গ্রামের ভেতরে ইউক্রেনীয় পতাকা উত্তোলন করছে।
বিবিসি বলছে, ইতোমধ্যে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে রুশ বাহিনী। দক্ষিণ দিকে এবার তারা পিছু হটছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চার অঞ্চলকে সংযুক্তি করার ঘোষণার পরই তাদের বিপর্যয় ঘটেছে দাবি করছে সংবাদ মাধ্যমটি।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এই সংযুক্তির কোনো বৈধতা নেই। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সংযুক্তির ঘোষণাকে বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। এ সময় বাইডেন যুক্তরাষ্ট্র কখনই রাশিয়ার সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জেলেনস্কিকে আশ্বস্ত করেছেন। এ ছাড়া এই দুই নেতা ছয় হাজার ২৫০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তার বিষয়েও আলোচনা করেন।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজধানী খেরেসনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে রুশ বাহিনী। তবে নেপিয়ার নদীর আশেপাশের অঞ্চলে তাদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী নদীর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এর ফলে রুশ বাহিনী খেরসন অঞ্চলের উত্তরের বেশ কয়েকটি বসতি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘দক্ষিণ ইউক্রেনে শক্তিশালী আন্দোলন চালাচ্ছে আমাদের বাহিনী। এই সপ্তাহে কয়েক ডজন বসতি দখলদারদের থেকে মুক্ত করেছে তারা। ’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘লুবিমিভকা, খ্রেশচেনিভকা, জোলোটা বলকা, বিলিয়াইভকা, ইউক্রেনকা, ভেলিকা ওলেক্সান্দ্রিভকা এবং মালা ওলেক্সান্দ্রিভকা গ্রামগুলো মুক্ত করা হয়েছে। ’
ইউক্রেনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উয়েভহেন এনিন বলেন, ‘৫০টি শহর ও গ্রাম আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সাড়ে তিন হাজার নাগরিককে খেরসন থেকে মুক্ত করা হয়েছে। ’
পরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রলালয় জানায়, রুশ বাহিনী হতাশাগ্রস্ত হয়েছিল। তারা ইউক্রেনের অগ্রযাত্রাকে ধীর করার প্রয়াসে সেতুগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।
এ দিকে খেরসনে রাশিয়া থেকে নিযুক্ত কর্মকর্তা কিরিল স্ট্রিমোসুভ সেকানকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ’
তবে খেরসনের উত্তর-পূর্বের গ্রামগুলো থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি রুশ সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।
রুশ সামরিক বাহিনীর ব্লগার রাইবার বলেন, ‘সেনাবাহিনী ঘেরাও হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় তারা পিছু হটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ’
খেরসনের নির্বাসিত ডেপুটি মেয়র রোমান হলোভনিয়া বলেছেন, ‘অনেক জনবসতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেখানে প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। কোনো ভবনই ধ্বংসযজ্ঞের বাইরে নেই। ’
তিনি আরও বলেন, ‘শহরের বাসিন্দারা ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছিল ও তারা অগ্রসর হচ্ছে। ’
‘এই শহরে যুদ্ধের আগে তিন লাখ ২০ হাজার লোক থাকতো। তবে যুদ্ধ লাগার পর বর্তমানে সেখানে লাখ খানেকের মতো বাসিন্দা রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। এরপরই দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধের শুরুতেই খেরসন অঞ্চলের দখল নেয় রুশ বাহিনী। খেরসনকে ঘাঁটি করে রসদ সরবরাহের লাইন তৈরি করে রাশিয়ার সৈন্যরা। তবে সবশেষ কয়েক সপ্তাহে এই সাপ্লাই চেইন ভাঙতে ব্যাপক আক্রমণ চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এ জন্য তারা কেয়েকটি ব্রিজও ধ্বংস করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দক্ষিণ দিকে তাদের অগ্রসর ধীর গতিতে রয়েছে।