ইমরান খানকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। এ ছাড়া ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর ইমরান খান সমাজে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাক প্রধানমন্ত্রীর।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মসদনে বসেন শাহবাজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো সাক্ষাৎকার দিলেন ৭০ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী।সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন তিনি
শাহবাজ বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তান শাসন করা প্রাক্তন ক্রিকেট সুপারস্টার ইমরান খান ঘরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই দেশের ক্ষতি করেছেন। ’
বর্তমানে এক বিরাট অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণের পাল্লা ভারী হচ্ছে। দেশটির রিজার্ভও কমেছে। আর ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অর্থনৈতিক এ সংকটের জন্য ইমরানকে দুষছেন শাহাবাজ।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘ইমরানের নীতিগুলো অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে। ’
দুর্নীতি বিরোধী ইশতেহার দেয়া ইমরান খানকে অভিযুক্ত করে শাহাবাজ বলেন, ‘তিনি নিজের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ, আত্মকেন্দ্রিক, অহংকারী ও অপরিণত রাজনীতিবিদ। ’
এখনও পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ইমরান খান। চলতি বছরের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের পর ক্ষমতা থেকে অপসারিত হন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ভোটে বাাঁধাগ্রস্ত করে দেশটির সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন ইমরান। এমনকি বিরোধী জোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পরিবর্তে সামরিক আইন জারি করার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। ভোটে হারার জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে আসছে ইমরান খান।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করা শাহাবাজ শরীফ স্বীকার করেছেন যে ইমরান খানের আন্দোলনের সময় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এমনকি তার শাসনমালে নেয়া অনেক সিদ্ধান্ত অজনপ্রিয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
শাহাবাজ বলেন, ‘এর আগে আমি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। ইমরান খান এই সমাজে অসীম পরিমাণ বিষ ঢুকিয়েছেন এবং এটিকে এতটা মেরুকরণ করেছেন যতটা আগে কখনো হয়নি… তিনি তথ্য বিকৃত করছেন এবং ঘৃণা সৃষ্টি করছেন। ’
সাক্ষাৎকারে শরীফ পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বিদেশি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য তার প্রচেষ্টার কথা বলেছেন যা ২০১৮ সালের পরে নড়বড়ে হতে দেখা গেছে। গত মাসের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী। তবে অধিবেশনে মর্মাহত হয়েছিলেন তিনি কারণ অনেক বিশ্ব নেতা ইমরানের সময়কালের বিষয় নিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাকে বলেছে ইমরান খান অনেক অভদ্র ছিল। তাকে তারা মিথ্যাবাদী ও নার্সিসিস্ট উদ্ধৃতি দিয়ে উদ্ধৃত করেছিল। ’
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু পুরোনো। তবে ইমরানের আমলে কোনো কারণ ছাড়ায় সে সম্পর্কে নষ্ট করে,’যোগ করেন তিনি।
নওয়াজকে নিয়ে শাহাবাজ বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমার ভাই জড়িত। সিদ্ধান্ত নিতে আমি তার সঙ্গে আলাপ করি। তিনি আমার নেতা ও আমার বড় ভাই। কিন্তু তিনি আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। ’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান