হারিকেন ‘ইয়ান’ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডার উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। তীব্র বাতাসের সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি
এবং সমুদ্রের বিধ্বংসী ঢেউয়ে সড়ক ও ভবনে পানি উঠে গেছে। ১০ লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
ইউএস বর্ডার পেট্রোল এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে ২০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর অন্যতম। উপকূলে আঘাত হানার সময় চার মাত্রার হারিকেন ইয়ানের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) ছিল। ঝড়ের তীব্রতার দিক থেকে পাঁচ মাত্রার হারিকেনের চেয়ে ইয়ানের গতিবেগ সামান্য কম। সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচ মাত্রার হারিকেনের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ধরা হয় ১৫৭ মাইল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, হারিকেন ইয়ানের আঘাতে নৌকাডুবিতে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউএস বর্ডার পেট্রোল এবং কোস্ট গার্ড নিখোঁজ অভিবাসীদের সন্ধান করছে।
ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লোরিডার প্রায় ১০ লাখের বেশি পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্লোরিডার মার্কো দ্বীপের পুলিশ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে শহরের কিছু অংশে প্রায় ২.৫ ফুট পানিতে ডুবে গেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে মার্ক প্রিচেট নামের এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, বাতাসের গতি এতই বেশি যে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি ফোঁটা যখন শরীরে পড়ছে তখন মনে হচ্ছে শরীরে কেউ সুই ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমার রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ছে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস দিনের শুরুতে সতর্ক করে বলেছিলেন, এটি একটি বাজে, খুুব বাজে দিন হতে চলেছে। এ জন্য ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং সেখানে থাকা উচিত।
ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডায় আঘাত হানার আগে কিউবায় আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশের পাওয়ার গ্রিড ভেঙে পড়েছে।