ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আরও সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ ঘোষণার পর থেকেই রাশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়; যা অব্যাহত
রয়েছে। বিক্ষোভ থেকে সাত শতাধিক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাশিয়ায় কাজ করা একটি মানবাধিকার সংগঠনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
রাশিয়ার স্বতন্ত্র মানবাধিকার সংস্থা ওভিডি-ইনফোর তথ্য মতে, গত শনিবার দেশটির ৩২ শহরে চলা বিক্ষোভ থেকে ৭২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী মস্কো থেকে ৭৫০ জন ও সেন্ট পিটাসবার্গ থেকে ৩৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরোধী দল ভেসনা ও কারাগারে বন্দী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থকরা যে শহরে বিক্ষোভের সময় নির্ধারণ করেছিল, সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা বিক্ষোভ করার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাশিয়ার আইনে অনুমোদিত সমাবেশ নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, সামরিক বাহিনীতে বেসামরিক লোকদের নিয়োগের পুতিনের ঘোষণার পরই শহরাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক হাজারের বেশি রাশিয়ানকে আটক করা হয়েছে।
মস্কোতে ‘আমরা কামানের পশু নই’ বলা এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। অন্যদিকে দেশটির দ্বিতীয় বড় শহর সেন্ট পিটাসবার্গে এক বিক্ষোভকারী এএফপির প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি পুতিনের পক্ষে যুদ্ধে যেতে চাই না। ’
৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা নাতালিয়া দুবোভা এএফপিকে জানান, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে। এমনকি পুরুষদের যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
এ দিকে শনিবার গ্রেপ্তারকৃতদের রুশ বাহিনীতে যোগ দেয়ার খসড়া দেয়া হয়েছে। তাদেরকে দ্রুত নিয়োগ কেন্দ্রে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার পুতিন প্রশাসন নতুন একটি আইন পাস করেছে। ওই আইন অনুযায়ী, কোনো সৈন্য আত্মসমর্পণ করলে অথবা সামরিক ত্যাগ করার চেষ্টা করলে কিংবা যুদ্ধ করতে অস্বীকার করলে তার ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
এ দিকে সকল রাশিয়ানদের কমপক্ষে এক বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে হবে এমন এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করা বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়ার ডিক্রিতেও স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
এ দিকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে রুশ পুরুষদের দেশ ছাড়ার বিষয়টি অব্যাহত রয়েছে। জর্জিয়া সীমান্ত সড়কে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ি জমেছে। স্থানীয় রাশিয়ান কর্মকর্তারা সীমান্তে ভিড় বাড়ার কথাটি স্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা গাড়ি সংখ্যা নেহাত কম নয়। একটি চেকপোস্টে প্রায় আড়াই হাজার গাড়ি অপেক্ষমাণ।
ফিনল্যান্ডের সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ির সারি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।