জাপানে আঘাত হানতে যাচ্ছে টাইফুন নানমাদল। রোববার দেশটির ভূখণ্ডে সুপার টাইফুনটি আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে দেশটির ২০ লাখ নাগরিককে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকার। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, রোববার জাপানের ভূখণ্ডে আঘাত হানবে টাইফুন নানমাদল। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে টাইফুনটি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করে এটিকে ‘হিংস্র’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে বলছে, টাইফুনটি আঘাত হানার আগে ২০ লাখ জাপানিকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা সতর্কতা নিয়ে এনএইচকে জানায়, জাপানের দক্ষিণ কিয়োসু অঞ্চলের কাগোশিমা, কোমামতো এবং মিয়াজাকির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে এরই মধ্যে চতুর্থ স্তরের ‘খালিকরণ’ নির্দেশনা জারি করেছে।
টাইফুনটি নিয়ে জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর কাগোশিমা অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ২০১৩ সালে আবহাওয়া সতর্কবার্তা দেওয়ার বর্তমান সিস্টেম চালু হওয়ার পর এটি ওকিনাওয়া অঞ্চলের বাইরে জারি করা ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত প্রথম বিশেষ সতর্কতা।
আল-জাজিরা বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় টাইফুনটিকে শীর্ষ ক্যাটাগরিতে নিয়ে গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কারণ মিনামি দাতিও দ্বীপ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে থেকেও টাইফুনটির বাতাসের গতিবেগ ছিল ২৭০ কিলোমিটার।
কাগোশিমা অঞ্চলে রোববার আঘাত হানার পর প্রচুর বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঘাত হানার পর টাইফুনটি উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে রাজধানী টোকিওর দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর পরেও এর গতিবেগের তীব্রতা বহাল থাকতে পারে।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান রুইতা কুরুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাইফুনটি আঘাত হানার সময় অভূতপূর্ব ঝড়, উচ্চ ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া উচিত। ’
তিনি আরও বলেন, ‘টাইফুনটি অনেক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাতাসের গতিবেগ এতটাই থাকবে যে কিছু বাড়িঘর ভেঙে পড়তে পারে। ’
জাপানে টাইফুনের আঘাত নতুন নয়। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে ২০টি টাইফুনের মুখোমুখি হয় দ্বীপ দেশটি। টাইফুনে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতে দেশটিতে ভূমিধস বা আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
২০১৯ সালে টাইফুন হাগিবিসে জাপানে ১০০ এর বেশি লোক মারা গিয়েছিল। এর এক বছর আগে টাইফুন জেবিতে ১৪ জন মারা যায়। ঠিক ওই বছরেই পশ্চিম জাপানে বন্যা এবং ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়েছিল।