‘ঘরে থাকাকালীন খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বাথরুমে যান, ফিরে এসে চেয়ারে বসে থাকেন। এ ছাড়া আর কোথাও যান না। সে যদি সুস্থই হতো তাহলে তো বের হতো। অন্তত বাড়ির লনে চলাফেরা করতো।
সে এখন বাড়ির ভেতরেও চলাফেরা করতে পারে না। তার সেই শক্তি নেই। হাঁটাচলার মতো অতোটা সুস্থও নয়। এখন বাড়ির ভেতরে অন্যের সাহায্য ছাড়া কোথাও যেতে পারছেন না। এমনকি আরেকজন তাকে খাইয়ে পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ’
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে আজ রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সেলফোনে তাঁর ছোট বোন সেলিনা ইসলাম নিউজ টোয়োন্টিফোরকে এসব কথা বলেন।
সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই। হার্টে এখনও দুটো ব্লক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, খালেদা জিয়ার দেশের বাইরে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। এখন বাকি উনাদের (সরকার) ব্যাপার। ’
চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁর চিকিৎসকরা চাচ্ছি, বাকি চিকিৎসা বিদেশেই হোক। লিভারের পরবর্তী চিকিৎসাও বিদেশে করা প্রয়োজন। সরকার বিদেশে যেতে অনুমতি দেবে কি না এটা তাদের বিষয়। তবে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেয়া খুবই জরুরি। ’
খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো খবর আসেনি। খবর আসলে সবাই জানবে। ’
এ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে তাঁর পরিবার।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তির পর থেকে খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমে ছয় মাসের জন্য শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়। মুক্তিতে থাকার সময় খালেদা জিয়া নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন; এ সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেয়। ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’-এর ধারা-৪০১ (১)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়।
‘