লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সশস্ত্র দুই মিলিশিয়া বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪০ জন। সংঘর্ষের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে ৬৪ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবারের রক্তক্ষীয় সংঘর্ষে ২৩ জন নিহতের কথা জানিয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রিপোলির অধিবাসী আবদুল মেনাম সেলিম সংঘর্ষ সম্পর্কে বলেন, ‘ত্রিপোলিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমার পরিবার ও আমি সংঘর্ষের কারণে ঘুমাতে পারিনি। ’
এদিন রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এতে ত্রিপোলির জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি পরিষেবাগুলো বলছে, সংঘর্ষের কবল থেকে বাদ যায়নি হাসপাতালও। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর পর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা দেখা দেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টের সমর্থনে ফাতিহ বাশাঘা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর উত্তেজনা বাড়ে। তিনি জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী (ত্রিপোলিভিত্তিক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান) আবদুল হামিদ দেবাহকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানান।
তবরুকভিতকি পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিহকে সমর্থন দিলে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে।
গত বছর জাতিসংঘ চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আবদুল হামিদ ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন।