খুলনার কয়রায় বাবা-মা ও মেয়েকে হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা ও দায়সারা তদন্তের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। মামলার বাদীর দাবি অনুযায়ী দ্রুত মামলার তদন্তভার সিআইডি, পিবিআই বা র্যাবের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার (২৬ আগষ্ট) দুপুরে কয়রার বামিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব দাবির কথা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ট্রিপল হত্যার সাথে ‘সীমানা পিলার ও তক্ষকের ব্যবসা’ সংক্রান্ত লেনদেন থাকলেও পুলিশ তদন্তে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ মামলাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের পিছনে ‘বিকৃত যৌনলালসা, প্রতারনামূলক আর্থিক লেনদেন ও পরকীয়া সম্পর্কে টানাপোড়ন’ দাবি করে জোরপূর্বক কয়েকজনকে দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করিয়েছে। যারা এখন আদালতে দেয়া ওই স্বীকারোক্তি বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার সাহা ২৩ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাজে লাগবে জানিয়ে সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত দু’টি দা ও একটি কুড়ালের আছাড়ি সংগ্রহ করেন। যার ছবি গ্রামের মানুষের মোবাইলে ধারণ করা আছে। কিন্তু, আদালতে জমা দেয়া জব্দ তালিকায় তিনি ১৪ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এসব অস্ত্র উদ্ধার করেন বলে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
মামলার বাদী মোছাঃ কহিনুর খানম বলেন, ‘দায়সারা গোছের এ তদন্ত আমরা চাই না। আমরা চাই সঠিক তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হোক। ’ তিনি আরো বলেন, সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তভার সিআইডি, পিবিআই বা র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও মেয়ে হাবিবা সুলতানা টুনি (১২) কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার হয়। হাবিবুল্লাহ তক্ষক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়। এদিকে হত্যার ঘটনায় কয়রা থানায় ২৬ অক্টোবর মামলা হয়।