২০০৩ সালে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি আজ ব্যক্তিস্বার্থ আর দখলদারিত্বের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) প্রায় ২ একর জমির ওপর এই টার্মিনালটি নির্মাণ করে পটুয়াখালী পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করলেও, এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে:
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ মৃধা নিজের ব্যক্তিগত মার্কেটকে জমজমাট করতে পরিকল্পিতভাবে এই সরকারি টার্মিনালটিকে অবহেলার পাত্রে পরিণত করেছেন। টার্মিনালের জায়গা সংকুচিত করতে তার ছোট ভাই সোহাগ মৃধার সরাসরি নির্দেশে এবং পল্লী বিদ্যুতের লেবার সরদার ইব্রাহিমকে ব্যবহার করে ‘বেকু’ দিয়ে পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মূলত পার্শ্ববর্তী অবৈধ দখলদারিত্বকে সুবিধা দিতেই এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
রহস্যজনক নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্র-জনতার প্রশ্ন:
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সংস্কারের হাওয়া বইলেও পটুয়াখালী বাস স্ট্যান্ডে এখনো কেন বহাল তবিয়তে রিয়াজ মৃধার ক্যাডার মামুন—সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, “এখনো কিভাবে এই মামুন গংরা সম্পূর্ণরূপে দূরপাল্লার নামিদামি ব্র্যান্ডের পরিবহনগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে? স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লোকজন এখনো কিভাবে এই কাউন্টারগুলোতে রাজত্ব করছে?”
মালিক সমিতির ভূমিকা নিয়ে সংশয়:
যদিও নবগঠিত বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বলছেন তারা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তবে কি মালিক সমিতির কাজে কেউ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে? নাকি পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতা হচ্ছে? যদি তাই না হয়, তবে কেন চিহ্নিত এই চাঁদাবাজদের এখনো বিতাড়িত করা হচ্ছে না? অভিযোগ রয়েছে, এই কাউন্টারগুলো থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ চাঁদার টাকা বর্তমানে বর্তমান সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। এমনকি এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা টিকিটের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান:
সচেতন মহলের দাবি, নবগঠিত মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নকে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। কোনো অপশক্তির বাধার কাছে নতিস্বীকার না করে এই ফ্যাসিস্ট সমর্থকদের অবিলম্বে বাস স্ট্যান্ড থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
উপসংহার:
শহরের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ফ্যাসিস্ট বিরোধী গণ-আন্দোলনের সুফল পটুয়াখালীবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পরিবহন খাতকে এই বিষমুক্ত করা এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।