পটুয়াখালীতে সাংবাদিক লোকমান মৃধার সাহসী তৎপরতা: অবৈধ মাটি দস্যুদের তাণ্ডব রুখে দিলো প্রশাসন
পটুয়াখালীর জনপদ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এক নির্ভীক কলমযোদ্ধার আপসহীন অবস্থান। লাউকাঠি নদীর পাড় ধ্বংসকারী অবৈধ মাটি দস্যুদের দৌরাত্ম্য রুখতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জুলাই যোদ্ধা ও সাংবাদিক লোকমান মৃধা। সাধারণ মানুষের জানমাল ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় তাঁর এই সাহসী উদ্যোগের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শুরু হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা।
গত প্রায় বিশ দিন ধরে পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসছিল আর্তনাদ। অভিযোগ ছিল—অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর জমি জবরদখল করে অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি। এই গুরুতর অভিযোগ সরাসরি পৌঁছায় সাংবাদিক লোকমান মৃধার কাছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গত রাতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে পৌঁছান তিনি। তবে সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অবৈধ মাটি দস্যু আসাদ ও আলামিনের নেতৃত্বাধীন চক্রটি সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সাংবাদিক লোকমান মৃধা তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি জরুরি অনলাইন অভিযোগ প্রেরণ করেন। তাঁর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে পরদিনই অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে জব্দ করা হয় অবৈধ কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন।
রাতের আঁধারে মুহূর্তেই অন্যের পৈত্রিক জমি পরিণত হচ্ছে গভীর গর্তে। আর সেই লুটের মাটি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ইতিপূর্বেও এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক ও জুলাই যোদ্ধা লোকমান মৃধা। কিন্তু অপরাধীদের দুঃসাহস এতটাই বেপরোয়া যে, হস্তক্ষেপে একদিন না যেতেই তারা আবারও শুরু করে তাণ্ডব।
ভুক্তভোগী ফাতেমা নামের এক অসহায় নারী মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত রাতেও আসাদ বাহিনী তাদের শেষ সম্বলটুকু কেটে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করলে বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছে এই ভূমিদস্যু চক্র।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই পেশাদার ভূমিদস্যুরা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সচেতন মহলের মতে, নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এই অপরাধচক্র মূলত সেই দলের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি ভেকু জব্দ করলেও সাধারণ মানুষের মনে এখন একটিই প্রশ্ন— রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা আসাদ ও আলামিন কি আইনের ঊর্ধ্বে? ভুক্তভোগী ফাতেমাসহ সকল ক্ষতিগ্রস্তের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে এবং মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের জোরালো দাবি।