জৈনকাঠিতে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামীর আহাজারি, এলাকায় শোকের ছায়া।
পটুয়াখালীতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার ১নং ওয়ার্ড টাউন জৈনকাঠি গ্রামে একমাত্র সন্তান হারানোর শোক সইতে না পেরে মোসাঃ মাফুজা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্বাধীন বাংলা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত মাফুজা বেগম ওই গ্রামের মোঃ জামালের স্ত্রী। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে সন্তানটি প্রায় চার মাস আগে মারা যায়। এরপর থেকেই মাফুজা বেগম মানসিকভাবে তীব্র বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি সন্তানের স্মৃতিচারণ করে প্রায়ই কান্নাকাটি করতেন এবং গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
মৃত মাফুজার স্বামী মোঃ জামাল, যিনি স্থানীয় একটি ওয়ালটন শোরুমে চাকরি করেন, তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে তিনি তার কর্মস্থলে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই প্রতিবেশীদের কাছ থেকে স্ত্রীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক খবর পান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে এসে ঘরের আড়ার সাথে স্ত্রীর ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এদিকে, স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ শহিদুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য: স্থানীয়রা স্বাধীন বাংলা টেলিভিশনকে জানান, মাফুজা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কিন্তু সন্তান মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জৈনকাঠি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।