পটুয়াখালীতে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আবদুল্লাহ (পিতা: সোহেল গাজী) নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করেছে স্থানীয় বখাটেরা। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ৫নং মরিচবুনিয়া গ্রামে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক বর্তমানে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ডান চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঘটনার সূত্রপাত ও হামলা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে এলাকার চিহ্নিত বখাটে নয়ন প্যাদা, রাফি ও ইসা হাওলাদারসহ কয়েকজন, আহত যুবকের বাবা সোহেল গাজীর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। তিনি এই অন্যায় আবদার ও চাঁদা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল বিকেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ছেলে আবদুল্লাহকে রাস্তায় একা পেয়ে ঘিরে ধরে এবং প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আবদুল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
চিকিৎসকের মতামত: আহত আবদুল্লাহকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে দ্রুত পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, “আহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকলেও তার ডান চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে রেফার করা হতে পারে।”
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও মতামত: এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “অভিযুক্ত নয়ন প্যাদা, রাফি ও ইসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমরা এই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য: ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই মামলা রুজু করা হবে। অভিযুক্তরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।