সাতক্ষীরার আশাশুনিতে দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে ৯ জনের নাম জানা গেছে।
তারা হলো রাজাপুর গ্রামের সিরাজুল সরদার, আনারুল সানা, মনিরুল ইসলাম, মফিজুল সানা, শফিকুল সানা, সিদ্দিক সানা, আলাউদ্দিন সানা, মাসুরা খাতুন ও হামিদা খাতুন।
আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, আনুলিয়ার ঘটনায় মোট ১৩ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের শরীরে ইটপাটকেলের আঘাত রয়েছে। তবে সবাই শঙ্কামুক্ত। তাদের চিকিত্সা চলছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখতে রাজাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগকর্মী শেখ জালাল উদ্দিন তাঁর পক্ষের লোকদের দিয়ে দলীয় কার্যালয় দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সর্বশেষ গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ওই গ্রামের হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি মোশাররফ ঢালী মোশা ও উত্তর একসরা গ্রামের শাহীনুর ঢালীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন কার্যালয় ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা টিনের বেড়া কোপাতে শুরু করে। খবর পেয়ে কয়েকজন কর্মী নিয়ে তিনি (সাঈদ) ঘটনাস্থলে গেলে তারা হামলা করে। তখন দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১২ থেকে ১৫ জন আহত হয়।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার বলেন, সরকারবিরোধীরা আবার একজোট হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি দলের ঊর্ধ্বতন নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে শেখ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এলাকার সেবামূলক কাজ করে থাকি। বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিপক্ষ আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে। ’
আশাশুনি থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।