ধামরাইয়ের আমজাদ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আতাল হককে ৩৮ বছর পর গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব-৪। মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ নভেম্বর রাত ৮টায় মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতাল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আমজাদ হোসেনকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘ ৩৮ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন তিনি।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটা ১৯৮৩ সালের ঘটনা। গ্রেফতার আতাল হক এবং ভিকটিম আমজাদ হোসেন ধামরাই থানাধীন বানেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ভিকটিম পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং গ্রামের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে আসামি ও তার পরিবার গ্রামে দুষ্ট প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নানা ধরনের অপকর্মের লিপ্ত ছিলেন। ভিকটিম তার বাড়ির সামনের ৪৭ শতাংশ আবাদি খাস জমি সরকার হতে লিজ নেন। অন্যদিকে আসামি ও তার পরিবার ওই জমির একটি জাল দলিল তৈরি করেন এবং ওই দলিলের ভিত্তিতে ভিকটিমের লিজ নেওয়া ৪৭ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দাবি করেন। জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। ভিকটিম আমজাদ হোসেন গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বারের দ্বারস্থ হলে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে ভিকটিম সালিশের রায় মেনে নিলেও আসামি পক্ষ তা অগ্রাহ্য করে সালিশ ত্যাগ করেন। সালিশের রায় মেনে নিয়ে ভিকটিম প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোর বেলা তার লিজ নেওয়া কৃষি জমিতে শ্রমিকসহ কাজ করছিলেন। পরে আসামির বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিমকে লাঠি দিয়ে মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশে নৃশংসভাবে আঘাত করে। একপর্যায়ে ভিকটিম মারা যান।
পরে এ ঘটনায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে রায় দেন। ২ এপ্রিল, ১৯৮৭ তারিখে আসামিদের সাজা ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে আসামি আতাল পালিয়ে আছেন।