আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রাশিয়া ও চীনকে টেক্কা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে হাইপারসনিক অস্ত্রের ব্যবহারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তা কাটিয়ে উঠতে এই মুহূর্তে চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার উপকূলীয় ভার্জিনিয়া থেকে হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হেডকোয়ার্টার পেন্টাগন।
দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাইপারসনিক অস্ত্র যোগাযোগ ও নেভিগেশন সরঞ্জাম সমৃদ্ধ রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে ভ্রমণ করার সময় উৎপন্ন তাপ সহ্য করতে পারে এমন উপকরণ দিয়ে করা হয়েছে এই পরীক্ষা। এই সপ্তাহের শেষের দিকে দ্বিতীয় সাউন্ডিং রকেট উৎক্ষেপণ করে হাইপারসনিক পরীক্ষা শেষ করা হবে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘এই রকেটগুলিতে পরীক্ষামূলক পেলোড রয়েছে যা একটি বাস্তবসম্মত হাইপারসনিক পরিবেশ উপকরণ এবং সিস্টেমের কার্যকারিতার উপর ডেটা প্রদান করে। এই ধরনের স্থল পরীক্ষা একটি সম্পূর্ণ ফ্লাইট পরীক্ষার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান দূর করে। সর্বশেষ সাউন্ডিং রকেট অভিযানটি যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্য নিশ্চিত করবে। নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনী উভয়ের যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ’
এর আগে ২০২০ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র অনুধাবন করে তারা রাশিয়া এবং চীনের থেকে হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে পিছিয়ে পড়ছে। ওই বছরের মাঝামাঝি হাইপারসনিক যুদ্ধের সক্ষমতা অর্জনে জুর দেয় পেন্টাগন। পরে দেশটির নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে হাইপারসনিক গ্লাইড বডির ডিজাইন তৈরি করে। যা সমুদ্র বা স্থল উভয় থেকেই উৎক্ষেপণ করা যাবে।
গত জুন মাসে প্রথম হাইপারসনিক পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে সময় প্রথম পূর্ণ-সিস্টেম পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়। পরে তা কাটিয়ে উঠে পেন্টাগন। বর্তমানে দেশটির এয়ার ফোর্স অন্য একটি ভিন্ন ধরণের হাইপারসিনক অস্ত্র তৈরি করছে। যাতে উচ্চ গতি অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে একটি বায়ু-নিঃশ্বাস নেওয়া ‘স্ক্র্যামজেট’ ইঞ্জিন।