1. sbtv24@sadhinbangla.tv : asd barta : asd barta
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুয়াকাটায় আবারও বিতর্কের শীর্ষে পৌর মৎস্যজীবী দলের এক নেতা। পটুয়াখালীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার! নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার। পটুয়াখালীতে বরগুনার ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত লাশের পায়ের নিচে বালিশ! পটুয়াখালীতে নদীখেকোদের রাজত্বের অবসান! পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে এখনো কেন বহাল তবিয়তে ফ্যাসিস্টের দোসররা? প্রশ্ন তুলছে ছাত্র-জনতা পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিকের গণসংযোগ ও পথযাত্রা অবৈধ মাটি দস্যুদের তাণ্ডব রুখে দিলো প্রশাসন শহীদ ওসমান হাদির শোকে জাতি যখন স্তব্ধ, পটুয়াখালীতে তখন উৎসবের ‘ধৃষ্টতা’ যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে এসে, সতিনের বর্বরোচিত হামলা! পটুয়াখালী জজ কোর্টে রক্তাক্ত প্রথম স্ত্রী। পটুয়াখালীর রাজনীতিতে নতুন মোড়!

ভারতের রাষ্ট্রপতির আথিতেয়তায় মুগ্ধ বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ১২৮ সময় দর্শন

বাংলাদেশ ও ভারত। পাশাপাশি দুইটি শব্দের অবস্থান এবং উচ্চারণ যেমন মধুর ও ভালোবাসার ঠিক তেমনি ভৌগলিকভাবে দুইটি দেশের মানুষের সম্পর্ক ও অবস্থান মধুর এবং হৃদয়ের। মাছে ভাতে বাঙালি। আর বাঙালির অতিথিপরায়নের কথা নাই বললাম।

বাংলাদেশিরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অতিথি পরায়ণ জাতি। অতিথির মন রক্ষা করতে বাঙালিরা সবকিছুই করে। আর ভারতীয়রাও বা কম কিসের। তারাও কি কম অতিথি পরায়ণ? ভারতীয়দের কাছে অতিথি মানে স্বয়ং নারায়ণ। তাই খাতির যত্নও বেশি। বাংলাদেশ, ভারত এবং অতিথি পরায়ণ নিয়ে কেন এত কথা বলছি সেই বিষয়ে এবার আসি।

গত ১২ অক্টোবর ভারত সরকারের ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগশেনের সদস্য হয়ে একশ তরুণ-তরুণী ভারতে যায়। সফরের দ্বিতীয় দিন আগ্রার তাজমহল দেখে তরুণ-তরুণীরা যখন হোটেলে ফিরছিল তখন ঘোষণা আসে , ১৪ অক্টোবর বিকালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছি আমরা। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করব এটি ভাবতেই অনেকে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল।

১৪ অক্টোবর দুপুরের খাবার খেয়েই সবাই চলে গেল সাজুগুজু করার জন্য। বাংলাদেশের মেয়েরা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য শাড়ি পড়লো। একেকজন একেক রকমের শাড়ি, কেউ জামদানি তো, কেউ সিল্ক। কেউ কাতান তো কেউ মনিপুরি আবার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েরা পড়েছে থামিসহ তাদের নিজস্ব পোশাক। অন্যদিকে ছেলেরা কম কিসের। প্রায় সকলে স্যুট, প্যান্ট ও টাই পড়ে হোটেল লবিতে অপেক্ষা গাড়ির জন্য। বাস এলো হোটেলের সামনে। হোটেল থেকে পুলিশ প্রটোকলে বাংলাদেশি শত তরুণ-তরুণীকে বহন করা বাস চলতে লাগলো ‘রাষ্ট্রপতি ভবন’ এর উদ্দেশ্যে।

৩৩০ একর জায়গার উপর নির্মিত রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢুকতেই ডেলিগেশন টিমের সকল সদস্যদের চোখ আটকে গেল। অপূর্ব সুন্দর, পরিপাটি এবং স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ সকলে। ৩৩০ একরের মধ্যে ৭৫ একরের বেশি জায়গাজুড়ে আছে বাগান। রয়েছে জলাধার, প্রজাপতি কর্নার, বরইগাছের উদ্যান, আমবাগান, ময়ূর পয়েন্ট, কমলালেবুর বাগান ও বন। আছে নানা জাতের হাজার হাজার গাছগাছালি, পশুপাখি। যেহেতু রাষ্ট্রপতি ভবনে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে দিবে না তাই ডেলিগেটসরা যে যেভাবে পারছে গাড়ি থেকেই ছবি বা ভিডিও করে ফোনটি ব্যাগে রেখে দিল। গাড়ি থেকে নেমে বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশনের (বিওয়াইডি) সিরিয়াল অনুযায়ী সবাই সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে গেলাম। সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা এসে বললেন ফোন বা ব্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়া যাবে না। যদিও পূর্ব নির্দেশনা অনুয়ায়ী আমরা সবাই ফোন আর ব্যাগ গাড়িতেই রেখে এসেছিলাম। তালিকা দেখে নাম যাচাই করে একেএকে প্রবেশ করানো হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবনে। রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢুকে ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত সিরিয়ালের সবাই বসলেন হাতের বাম পাশে আর ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সিরিয়ালের সবাই বসলেন ডানদিকে।

রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢুকে চোখে পড়লো ভবনের সৌন্দর্য। তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়া গেটের মুখোমুখি রাজপথের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবনে রয়েছে মুঘল গার্ডেন সহ নয়টি টেনিস কোর্ট, একটি পোল মাঠ, একটি ১৪ গর্তের গল্ফ কোর্স এবং একটি ক্রিকেট মাঠ রয়েছে। চারতলা অট্টালিকাটিতে রয়েছে ৩৪০টি ঘর এবং এর কার্পেট এরিয়া ২,০০,০০০ বর্গফুট। ভবন নির্মাণে কোনও ইস্পাত ব্যবহৃত হয়নি। ২৯ হাজার লোক ১৭ বছর ধরে এই ভবনটি তৈরি করেন।

ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ইরউইনের জন্য এই ভবনটি তৈরির চিন্তা আসে ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার এডউইন লুটিয়েনছের মাথায়। ১৯২৯ সালে এই ভাইসরয় এই ভবনে ওঠেন। ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারি প্রথম এই বাসভবনে ছিলেন। তখন এর নাম ছিল গভর্নমেন্ট হাউস। যখন ভবনটি তৈরি হয়, তখন এর নাম ছিল ভাইসরয়’স হাউস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গভর্নমেন্ট হাউস। পরে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় এর নাম হয় রাষ্ট্রপতি ভবন।

রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার কক্ষেই আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশনের সদস্যদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠান। দরবার কক্ষে যেখানে রাষ্ট্রপতির আসন অবস্থিত ঠিক তার পেছনেই ছিল একটি প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি। যার নির্মাণকাল চতুর্দশ শতাব্দী। বুদ্ধমূর্তিটাকে প্রথম দেখাতেই মন জুড়িয়ে যাবে। বুদ্ধমূর্তিটি দেখেই আমি পাশের একজনকে বললাম এটিই হচ্ছে সেকুলার ভারতের নিদর্শন।

দরবার কক্ষেই অপেক্ষা করছিলাম সেই মহিয়সী নারীর জন্য। যিনি স্কুল শিক্ষক থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। ভারতসহ বিশ্বের সকল নারীর অনুপ্রেরণার মানুষ শ্রীমতি দ্রৌপদি মুর্মু জি। এরমধ্যে অবশ্য রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তারা আমাদের পুরো ডেলিগেশন টিমকে দুইভাগে বিভক্ত করে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। আমরা ডামি পোজ দিয়েও চলে এসেছি।

হঠাৎ করে দেখলাম দরবার কক্ষে নিরবতা বিরাজ করছে। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সামনে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর দুই সুদর্শন অফিসার, পেছনে রয়েছে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত চেয়ারের সামনে এসে দুইহাত জোড় করে নমস্কার জানালেন সকলকে। এরপর বেজে উঠলো ভারতের জাতীয় সংগীত। জাতীয় সংগীত শেষে আসন গ্রহণ করলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারতের যুব ও ত্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং ডেলিগেশনের পক্ষে বক্তব্য রাখলেন অমরিতা বর্মণ।

এরপর বক্তব্য দিতে আসেন রাষ্ট্রপতি। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যেক ভারতীয়ের হৃদয়ে ও মনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ও অংশীদার হতে পেরে ভারত গর্বিত। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন যাত্রা ভাগাভাগি করে চলেছে। এই চেতনা রক্ষা করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা আমাদের দুই দেশ এবং আমাদের জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, এর উত্থান ও সমৃদ্ধি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প। বাংলাদেশের তরুণদের একটি অতীত রয়েছে যা গৌরবে পূর্ণ এবং একটি ভবিষ্যত যা প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণ। বাংলাদেশ প্রত্যেক ভারতীয়ের হৃদয়ে ও মনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা শিল্প, সঙ্গীত এবং সাহিত্যসহ আমাদের মধ্যে অনেক কিছু শেয়ার করি। উভয় দেশ এই সম্পর্কের প্রতি যে বিশেষ গুরুত্ব দেয় তা দেখায়।

রাষ্ট্রপতি ইয়ুথ ডেলিগেশন টিমের সদস্যদের ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও বন্ধুত্বের সোনালী যুগের সূচনার আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে পুনরায় ভারতীয় জাতীয় সংগীত বেজে উঠলো। জাতীয় সংগীত শেষে দরবার কক্ষ ত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি। এরপর আমরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছবি তোলার জন্য নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করলাম। প্রথমে ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত সিরিয়ালের সদস্যরা এবং পরে ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সিরিয়ালের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি তুললেন। ছবি তোলা শেষে রাষ্ট্রপতি ইয়ুথ ডেলিগেশনের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। তিনি বাংলায় সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছেন সবাই? ইয়ুথ ডেলিগেশনের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির মুখে বাংলা শুনে খুশি হয়ে বললেন আমরা সবাই ভালো আছি। এরপর রাষ্ট্রপতি সফর কি রকম হচ্ছে, খাবার কেমন লাগছে, পরিবেশ কেমনসহ নানা বিষয় জিজ্ঞেস করলেন। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা কেউ ইংরেজিতে, কেউ বা হিন্দিতে সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন। এর মধ্যে একজন বললেন, ‘ম্যাডাম খানা সেইম , লেকিন টেস্ট ডিফারেন্ট হে’। পরে আরও অনেক কথা বললেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া ইয়ুথ টিমে নারীদের সংখ্যা বেশি শুনেও তিনি খুশি হন। ইয়ুথ ডেলিগেশনের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে ইয়ুথ ডেলিগেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে একটি শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পড়ুন এই বিভাগের আরও খবর

Chairman Md. Azadul Islam. CEO Md. Amir Hossain. Editor S, M, Shamim Ahmed. Managing Director Md. Lokman Mridha, office House # 43 ( Ground Flooor ) 47 Road No. 30, Mirpur, Dhaka Division - 1216

 

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host
Hwowlljksf788wf-Iu