‘দুই দিন শুকনা খাবার খাইছি’ ঘর থেকে জোয়ারের পানি সেচতে ব্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল পটুয়াখালীর গলাচিপায় আমি বুড়া মানুষ। আগেও অনেক ঝড় দেখছি। কিন্তু এইবার
সবাই কওয়াকওয়ি (বলাবলি) করছিল—সিতাং (সিত্রাং) বইন্যায় পানি বেশি ওঠব। এহন তো ঘরের মধ্যে যে অবস্থা, সব পানিতে তলাইয়া ভিইজ্জা গেছে। দুই দিন ভাত খাই নাই, শুকনা
খাবার খাইছি।’ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে আক্রান্ত হওয়ার কথা এভাবেই বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ওয়াপদা বেড়িবাঁধসংলগ্ন তালেবনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আম্বিয়া
বেগম (৬২)। গতকাল তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে খাট পেতে তরকারি কাটছেন আম্বিয়া। ঘরের মেঝেতে পানি জমে আছে, ডুবে গেছে চুলা। তাঁর মেয়ে শাহাবুনু
রাস্তার পাশে ইট দিয়ে চুলা বানাচ্ছেন আর অন্য সন্তানরা ব্যস্ত ছিলেন পানি সরাতে।
আম্বিয়া বেগম জানান, গত সোমবার ঝড় শুরু হলে নাতিন জামাই তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে
গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভাত খাওয়া হয়নি। ঝড় শেষে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ফিরে দেখেন ঘর পানিতে ডুবে আছে; চুলা, আসবাব, বিছানা পানিতে ভিজে গেছে।
পানি সরাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আবারও ঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে
জোয়ারের সময় অল্প সময়ের মধ্যে আমাগো ঘরের মধ্যে পানি ওডে (ওঠে)। দুপুরে খাইতেও পারি নাই। চিন্তা করছি বিয়ালে সাইক্লোন শেল্টারে যামু। কিন্তু এত বিষ্টি আর বাতাস,
আবার ঘরের মধ্যে হাঁটুপানি। কোনো দিকে যাওয়ার জাগাই পাইলাম না। পরে সন্ধ্যার সময় যহন বেশি বাতাস আর বিষ্টি, ওই সময় আমার নাতির জামাই আইয়া আমারে বড় একটা
ঘরে লইয়া গ্যাছে। আবার বেইন্নাকালে আইয়া পড়ছি।’ উদ্ধারকারী দল বা স্বেচ্ছাসেবীরা সাহায্য করতে এসেছিল কি না জানতে চাইলে আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘এমনে মাইকিং হুনছি।
আর আমাগো আশ্রয়ণের সভাপতি আইয়া কইছিল শেল্টারে যাওয়ার জন্য। এ ছাড়া আর কেউরি পাই নাই। কোনো সাহায্যের লাইগ্যাও কেউ আয় নাই।