গতকাল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মদসদনে বসেছেন ঋষি সুনাক। এরপরেই তার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবারের (২৫ অক্টোবর) ওই আলাপে চীনকে রুখতে ও ইউক্রেনকে সহযোগিতার জন্য একমত হয়েছে এই দুই নেতা। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, এক বছরের মধ্যে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিটেনের দায়িত্ব নিয়েছেন সুনাক। মদসদনে বসার কয়েক ঘণ্টা বাদেই তার সঙ্গে কথা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের। ওই সময় তারা ইউক্রেনকে সহযোগিতা ও চীনকে প্রতিহত করার বিষয়ে কথা বলেন এবং একমত পোষণ করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সদ্য সাবেক হওয়া প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করেন বাইডেন। যুক্তরাজ্যের বিষয়ে মার্কিন নেতার এই মন্তব্য বিরল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। এমনকি বেক্সিট পরবর্তী সময়ে দুদেশের সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়ে। এই অঞ্চলে শান্তি নিয়ে উদ্বেগ পর্যন্ত জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস।
ফোনালাপের পর এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ পুনর্নিশ্চিতে কাজ করার বিষয়ে কথা বলেছেন বাইডেন-সুনাক। এ ছাড়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও উন্নতিতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন তারা।
রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়েছে এমনটা দাবি করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য এবং রাশিয়াকে তার আগ্রাসনের জন্য দায়বদ্ধ রাখার জন্য একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের শীর্ষ ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেইজিংকে চিহ্নিত করেছে ওয়াশিংটন। বাইডেন-সুনাকের ফোনালাপে এ বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তারা বলছে, চীন দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মত হয়েছেন বাইডেন ও সুনাক।
হোয়াইট হাউসের আগে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এই দুনেতার ফোনালাপ নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে চীনের ক্ষতিকারক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাইডেন। এ ছাড়া একসঙ্গে কাজ করার জন্য তার উন্মুখ হয়ে রয়েছে।