দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রসীমা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিল লেবানন ও দখলদার ইসরায়েল। অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সমুদ্রসীমা নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তিতে’ পৌঁছেছে দেশ দুটি। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, গ্যাস সমৃদ্ধ ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সামুদ্রিক সীমান্ত বিরোধের অবসান ঘটাতে লেবানন ও ইসরায়েল একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে পৌঁছেছে।দুদেশ কর্তৃপক্ষই এ তথ্য জানিয়েছেন।
লেবাননের ডেপুটি স্পিকার ইলিয়াস বাউ সাব বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া রাষ্ট্রপতি মিশেল আউনের কাছে জমা দেওয়ার পর তিনি এতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। এই চুক্তি উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করেছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘লেবানন তার সম্পূর্ণ অধিকার পেয়েছে এবং আমাদের সমস্ত মন্তব্যকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া আমাদের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করবে। ’
চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক অর্জন জানিয়ে মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লেপিড বলেন, ‘এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। আমাদের উভয়ের সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। আর আমাদের অর্থনীতিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সংযুক্ত হবে। ’
সমুদ্রসীমার দ্বন্দ্ব অবসানে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল মার্কিন দূত আমোস হোচস্টেইন। সেই খসড়াকে স্বাগত জানিয়েছিল ইসরায়েল। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভূমধ্যসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলন করতে পারবে দেশ দুটি।
সমুদ্র সীমানা সংক্রান্ত চুক্তিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি আউন। একই কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াল হুলাতা; যিনি ইসরায়েলি আলোচনা দলের প্রধান।
এক বিবৃতিতে ইয়াল হুলাতা বলেন, ‘আমাদের সমস্ত দাবি পূরণ করা হয়েছে। আমরা যে পরিবর্তনগুলো চেয়েছিলাম তা সংশোধন করা হয়েছে। আমরা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করেছি এবং একটি ঐতিহাসিক চুক্তির পথে রয়েছি। ’
তবে কবে এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে তা খোলাসা করে জানায়নি কোনো কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ আলোচনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি লেবানন সরকারের সঙ্গে একমত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।