সরু ও সিল্কি করতে গিয়ে দেশে প্রতিদিন ৬ হাজার মেট্রিক টন চাল গুড়া হিসেবে বাদ দেওয়া হচ্ছে; যা মোট উৎপাদনের ১০ ভাগ। এছাড়াও ভাঙা ও কালো দানা বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে আরও ১৫ ভাগ চাল। এই বিপুল পরিমাণ চাল মোট উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হলে সমৃদ্ধ হতো খাদ্য ভাণ্ডার। আর চাল আমদানি করার প্রয়োজনই হতো না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চালকল মালিকদের হিসাবে দেশে ১ হাজার ২০০ মতো অটোমেটিক চালকল আছে। বয়লারে একযোগে ৮শ’ মণ ধান ঢেলে দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর বের হয়ে আসে সরু-সিল্কি চাল। এই প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারাইজড কালার সর্টার মেশিনে বাদ পড়ে যায় ভাঙা ও কালো-মাছি দানা। আর পলিশ করতে গিয়ে প্রতিমণে আড়াই থেকে ৩ কেজি চাল গুড়ো হয়ে বের হয়। এই হিসেবে প্রতিদিন ৬০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করতে গিয়ে পলিশ গুড়া হিসেবেই বাদ যাচ্ছে ৬ হাজার মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ও কুষ্টিয়া জেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলিশগুড়া মৎস্য, পোল্ট্রি ও গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে পলিশ করা সরু চকচকে ছাড়া কেউ আর চাল কিনতেই চান না।
জনবহুল বাংলাদেশে প্রধান খাদ্য হিসেবে চাল উৎপাদন বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সচেতনরা। পলিশ না করলে প্রতিদিন বাদ যাওয়া বিপুল পরিমাণ গুড়া- চাল হিসেবেই যুক্ত হবে, আর এতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে দেশ।