মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ঠিকাদার এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নাগরিকত্ব দিয়েছে রাশিয়া। তাকে নাগরিকত্ব দেয়ার এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, স্নোডেনের নাগরিকত্ব মঞ্জুর করে এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন।সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে ৭৫ বিদেশি নাগরিককে নিজেদের নাগরিকত্ব দেয়ার একটি লিস্ট দেয়া হয়; যেখানে স্নোডেনের নাম রয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী স্নোডেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ছিলেন। বিভিন্ন গোপন নথি ফাঁস করে আলোড়ন ফেলে দেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে রাশিয়ায় রয়েছেন সাবেক এই মার্কিন ঠিকাদার।
রাশিয়া ২০২০ সালে স্নোডেনকে সেদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়। এই অনুমতি পাওয়ার পরই রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য স্নোডেনের পথ সুগম হয়।
সোমবার এক টুইট বার্তায় স্নোডেন বলেন, ‘বহু বছর ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে নেই। তবে আমি ও আমার স্ত্রী ছেলে থেকে আলাদা হতে চাই না। দুই বছরের অপেক্ষা এবং প্রায় দশ বছরের নির্বাসনের পর, একটু স্থিতিশীলতা পেয়েছি। এটি আমার পরিবারের জন্য একটি পার্থক্য তৈরি করবে। আমি তাদের সকলের গোপনীয়তার জন্য প্রার্থনা করি। ’
এনএসএ’র গোপন গোয়েন্দা নজরদারির বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করে বিশ্বে আলোড়ন তোলেন স্নোডেন। এর জেরে মার্কিন অনেক রাজনীতিবিদ বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহী বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি করার জন্য স্নোডেনকে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে আসছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে স্নোডেনের রুশ নাগরিকত্ব পাওয়ার খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এডওয়ার্ড স্নোডেনের আমেরিকান নাগরিকত্বের অবস্থার কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত নয়। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার দেশে ফিরে আসা উচিত। ’
স্নোডেনের আইনজীবী রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরআইএ’কে বলেন, সাবেক মার্কিন ঠিকাদারের স্ত্রী লিন্ডসে মিলসও রাশিয়ায় রয়েছেন। তিনিও রাশিয়ান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন। ’
২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্নোডেন ও লিন্ডস দম্পতির একটি পুত্র সন্তান হয়। জন্মস্থান সূত্রে ওই ছেলের রাশিয়ান পাসপোর্ট রয়েছে।