ইউরোপজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। দেখা দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতির। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউরোজোনে সুদের হার ক্রমাগতভাবে বাড়ানোর কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নীতিনির্ধারকরা।খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় সুদের হার ক্রমাগতভাবে বাড়াতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন ইসিবির নীতিনির্ধারকরা।
অঞ্চলটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে তা বেড়ে ৯ দশমিক এক শতাংশে পৌঁছেছে; যা অর্ধদশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে সুদের হার শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক দশমিক ২৫ শতাংশে নির্ধারণ করে ইসিবি। মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ইসিবি এ সুদের হার বাড়ায়। ঠিক এর পরেই সুদের হার ক্রমাগত বাড়ানোর পরামর্শটি সামনে এলো।
স্লোভাকিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও ইসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য পিটার কাজিমির বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি ওপরেই রয়ে গেছে। আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণ এখন অগ্রাধিকার পাবে। ’
কাজিমির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় গার্ডিয়ান বলছে, সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একই মুদ্রা ব্যবহার করা ইউরোপের ১৯টি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে ধীরগতি করে ফেলবে। এমন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুদের হার বাড়ানো হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্লাস নট বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়া মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। আমরা ধারণা করছি, সামনের মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, এই গ্রহে আমাদের একটাই সমস্যা; মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতি কমাতে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম করতে হবে। ’
গত আগস্টে একটি মিটিংয়ের পর সুদের হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ঊর্ধ্বতনরা। চলতি মাসেও মিটিংয়ে বসে সুদের হার ফের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়াতে পারে তারা।
গার্ডিয়ান বলছে, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর আগস্টের পুনরাবৃত্তি করতে পারে ঊর্ধ্বতনরা। চলতি মাসের ১৫ তারিখে তাদের মিটিংয়ে বসার কথা থাকলেও রানির মৃত্যুতে তা পরিবর্তন করে ২২ সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়েছে।
সুদের হার বাড়ানো নিয়ে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় রাজা বলেন, ‘ইসিবির পরিচালনা পর্ষদের নয় সদস্য ত্রিমুখী বিভক্তির পরে একটি মধ্যম পথ অবলম্বন করতে পারে। দুই সদস্য সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির পক্ষে। তবে অন্যদুজন শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চায়। ’
তিনি আরও বলেন, ‘গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে জ্বালানির বিল কমাতে অর্থনীতিতে ১৫ হাজার কোটি পাউন্ড ভর্তুকি দেওয়াকে মূল্যস্ফীতি হিসেবে বিবেচনা করবে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে করে আগামী বছরে সুদের হার বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ চার শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ’