যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই পদের দৌড়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাক। এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ (টোরি) পার্টির সব নেতাকর্মীকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার এক টুইটবার্তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিশি সুনাক বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি, কনজারভেটিভরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। এখন আমাদের উচিত দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
দেশের এক কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। ’
লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মদ পার্টি কেলেঙ্কারি, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকা বরিস জনসন গত ৭ জুলাই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পর শুরু হয় দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
এরপর বিভিন্ন ধাপ সামলে সরকারি দলের আইন প্রণেতাদের ভোটে একটি বড় সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন তিন জন—ঋষি সুনাক, লিজ ট্রাস এবং বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী পেনি মরডাউন্ট। তবে এক পর্যায়ে মরডাউন্ট এই দৌড় থেকে ছিটকে পড়েন।
পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটপর্ব শেষ হয় বেশ আগেই এবং সেই ভোটের ফলাফলে সুনাক এগিয়েই ছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১৩৭ ভোট, আর ট্রাস পান ১১৩ ভোট। তবে পার্লামেন্টের বাইরে সরকারি দলের যেসব ভোটার আছেন, তাদের ভোটগ্রহণ শেষেই ফল পুরো উল্টে যায়।
পার্লামেন্টের বাইরে সরকারি দলের ভোটার সংখ্যা মোট সংখ্যা ১৭ লাখ ২ হাজার ৪৩৭ জন। শুক্রবার তাদের ভোট শেষ হয়। সোমবার সেই ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে ৮১ হাজার ৩২৬টি ভোট পেয়েছেন ট্রাস, আর সুনাকের ভাগে পড়েছে ৬০ হাজার ৩৯৯ টি ভোট। এছাড়া বাতিল হয়েছে ৬৫৪টি ভোট। ফলে ৪২ বছর বয়সী সুনাকের চেয়ে ২০ হাজার ৯২৭টি ভোট বেশি পেয়ে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন ৪৭ বছর বয়সী লিজ ট্রাস।
ট্রাসের আগে যুক্তরাজ্যের দুই নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন মার্গারেট থ্যাচার ও থেরেসা মে। তারা দুজনও এই কনজারভেটিভ পার্টির ছিলেন।
সূত্র: পিটিআই