মহামারি করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এতেই বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। এর মধ্যে মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি।কারণ দেশটিতে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে। খবর ডেইলি মেইলের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, ব্রিটেনে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম। এতে বিপাকে পড়বে প্রায় আড়াই কোটি পরিবার। কারণ অক্টোবর থেকে তাদের বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে তিন হাজার হাজার ৫৪৯ পাউন্ডে, যা বর্তমানে রয়েছে ১ হাজার ৯৭১ পাউন্ড।
এমতাবস্থাকে ‘সঙ্কট’ বলে অবিহিত করেছে অফজেম। দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ সঙ্কটের মোকাবেলা করা দরকার বলে জানিয়েছে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
অফজেমের প্রধান নির্বাহী জনাথন বেয়ারলি বলেন, ‘এই বৃদ্ধি ব্রিটেনের পরিবারগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। সামনের জানুয়ারিতে দাম বৃদ্ধির আরেকটি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ রাশিয়ার সরবরাহ কমানোর কারণে পাইকারি গ্যাসের দাম রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। ’
সামনের বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গ্যাসের দাম আরও ৫২ শতাংশ বাড়তে পারে। পরবর্তী এপ্রিলে আরও ৩৪ শতাংশ বাড়তে পারে। পরের মাসে ১১ শতাংশ ও অক্টোবরে আরও সাত শতাংশ বাড়তে পারে।
অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক মার্টিন লুইস বলেন, ‘এবারের দাম বাড়ানোয় অনেক ব্রিটিশকে বার্ষিক ১০ হাজার পাউন্ড বিল দিতে হবে। সামনের দিকে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ’
রয়টার্স বলছে, গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধির ফলে লাখ লাখ ব্রিটিশ পরিবারকে ‘জ্বালানি দারিদ্র্য’র দিকে চলে যাবে। কারণ তারা মৌলিক বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কিছুতে ব্যয় করতে পারবে না।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় যুক্তরাজ্যসহ সব উন্নত দেশের মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁয়েছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশ পেরিয়েছে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশ এবং আগামী বছর জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে ব্রিটেনের ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ জ্বালানি-দারিদ্র্যে পড়বে।
ব্রিটেনে প্রতি তিন মাস পর পর জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অতিমুনাফা করতে না পারে সে জন্য এ ব্যবস্থা । তবে বর্তমানে সবনিম্ন দমেই জ্বালানি পাচ্ছে পরিবারগুলো। তবে বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ করে এমন ৩০টি প্রতিষ্ঠান লোকসানের জন্য ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।