বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটিতে ক্রমাগত হারে কমছে জনসংখ্যা। ২০২০ সালে সর্বনিম্ন জন্মহারে বিশ্বে রেকর্ড করে সিউল। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।এমনকি এবারেও বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারে রেকর্ড করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাপকহারে জন্মহার কমছে দক্ষিণ কোরিয়ায়; যার ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ সালেও দেশটির জন্মহার এতটাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে, বিশ্বের মধ্যে তা সর্বনিম্ন।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে শিশু জন্মহার কমে দাঁড়িয়েছে ০.৮১ শতাংশ; যা ২০২০ সালের চেয়ে তিন শতাংশ কম।
বিবিসি বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে শিশু জন্মের গড় হার এক দশমিক ৬ শতাংশ। তবে এর তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার অনেক কম। অভিবাসন বাদে প্রতি দম্পতির দুজন করে সন্তান থাকলে যে কোনো দেশের জনসংখ্যা আগের পর্যায়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা ওইসিডি বলছে, সবশেষ ছয় ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার ক্রমাগত হারে কমছে। ১৯৭০ সালের দিকে প্রতি নারীর চারটি করে সন্তান থাকলেও এখন সে হার অনেক কম। জন্মহার ক্রমাগত তমতে থাকলে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ দেশটির জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার কমার জন্য দায়ী অর্থনীতি ও ক্যারিয়ার। কারণ তরুণরা অর্থনৈতিক সচ্চলতা ও ক্যারিয়ারকে মূল বিবেচ্য হিসেবে দেখছে।
ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা দেশটিকে ব্যাপক চাপের মধ্যে ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও পেনশনের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের খরচ বাড়বে। এমনকি তরুণদের সংখ্যা কমার ফলে দেশটিতে শ্রমের ঘাটতিও দেখা দিবে; যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে