বকেয়া মজুরির দাবিতে প্রতিবাদ করায় অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে কাতার। দেশটিতে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এমনটা করছে পারস্য উপসাগরের দেশটি। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ১৪ আগস্ট বকেয়া বেতনের দাবিতে আল বান্দারি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের দোহা অফিসের সামনে কমপক্ষে ৬০ জন অভিবাসী শ্রমিক বিক্ষোভ করেছিল।এর মধ্যে অনেক শ্রমিকের সাত মাসের মজুরি বকেয়া ছিল। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শ্রমিককে আটক ও বেশ কয়েকজনকে তাদের দেশে ফেরত পাাঠিয়েছে। তবে ফেরত পাঠানো শ্রমিকের সংখ্যা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করায় এসব অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় কাতার ২০১০ সালে। এরপর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো নির্মাণ বেড়ে যায়। আর এসব করতে যেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী এই দেশটি অভিবাসী শ্রমিকদের সাথে করা আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
কাতার ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপরেই দেশজুড়ে স্টেডিয়াম এবং অবকাঠামো নির্মাণ বেড়ে যায়। এর জেরে প্রচুর অভিবাসী শ্রমিক নেয় দেশটি। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা উঠে। আল বান্দারি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ প্রধানত একটি নির্মাণ ও প্রকৌশল কোম্পানি। দোহায় বান্দারি গ্রুপের সামনে বিক্ষোভকারীরা ফুটবল মাঠ তৈরিতে যুক্ত ছিল কিনা তা জানা যায়নি।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাতার সরকার নিশ্চিত করেছে যে, দোহায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন কর্মীকে জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য আটক করা হয়েছে। কাতার সরকার বলছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করবেন। আল বান্দারি গ্রুপকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তারা সময়মতো শ্রমিকদের মজুরি না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি তুলে ধরেছে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ইকুইডেম। ইকুইডেমের নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কাদরি বলেন, ‘আমরা কি কাতার এবং ফিফা দ্বারা প্রতারিত হয়েছি? নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলায় এই দেশটি মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। ’ কাদরির ভাষ্যমতে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিশর ও ফিলিপাইনের নাগরিক।