বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত গণসমাবেশে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের অবহেলায় বেগম খালেদা জিয়ার কোন অঘটন ঘটলে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ বসে থাকবে না।
তাদের কারও হুকুমের দরকার পড়বে না। সারাদেশ এমনিতে অচল করে দিবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে শুধু দলের নেতাকর্মীরা নয়, দেশের সাধারণ মানুষও ভালোবাসে। সরকার আইনের দোহাই দিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া থেকে বঞ্চিত করে আসছে। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা পদক ঘোষণা করেছেন অথচ তার স্বাধীনতা পুরষ্কারের পদক যাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। জিয়াউর রহমান দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। আর কবরে তার লাশ আছে’ কি নেই তা নিয়ে বিতর্ক করা হচ্ছে। লুই কানের করা জাতীয় সংসদের ডিজাইনে কবর নেই এই যুক্তিতে জিয়াউর রহমানের কবর সরাতে চায়।
লুই কানের ডিজাইন পাকিস্তান আমলের, তাই জাতীয় সংসদের ডিজাইন পাকিস্তানের পতাকার আদলে করা। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে আর অবহেলা করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তার সু-চিকিৎসাকে বিলম্বিত করে সু-চিকিৎসাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন নির্বাচন কমিশন করার জন্য সার্চ কমিটির নামে রসিকতা করা হচ্ছে। যে পর্যন্ত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন যতই বানান তাতে কোন লাভ হবে না। জনগণ আর এদেশে ভোটার বিহীন নির্বাচন হতে দেবে না।
শুক্রবার ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে ফুলবাড়িয়া পুরাতন ঈদগাহ মাঠে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন দুই দলের প্রেমের সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগ ৩ বার ক্ষমতায় এসেছে। মানুষে মানুষে প্রেম হয় কিন্ত দুই দলে প্রেম কার সাথে কার প্রেম ছিল? অবৈধ প্রেম অবৈধ সন্তানের জন্ম দেয়। তাই আমরা গত ৩ নির্বাচনে অনেক অবৈধ এমপি মন্ত্রীকে সংসদে দেখেছি বলে উল্লেখ করেন।
জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, এডভোকেট শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন,জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক, সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু প্রমুখ। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে সু-চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান।
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক খান দুলালের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আমজাদ হোসেন, আনিছুর রহমান বিপ্লব,লিয়াকত আলী,সফিউর রহমান সফি, কাজী মসিউর রহমান, এডভোকেট ফজলুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাজ্জাদ হোসেন পল্টন, রিজভী আল জামালী রঞ্জু,সাংগঠনিক সমপাদক লোকমান আহাম্মেদ খান লোটন,সফিকুল ইসলাম খান সজীব, মাইন উদ্দিন বাবুল,জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম সাত্তার,জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান,
শহর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ,জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ মোঃ আব্দুল সোবহান,সাধারণ সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বসাক, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার ইসলাম কর্ণেল, মহিলা দল নেএী আরমিন আক্তার মিতু,কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য সেলিনা বেগম,জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদা আক্তার শ্যামা,সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদা আক্তার রুবি, শহর যুবদলের আহবায়ক সফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সোহেল রানা খান,সাধারণ সম্পাদক ওমরুজ্জামান দর্শন চৌধুরী,সিনিয়র সহসভাপতি মোশারফ সিদ্দিকী,সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম সুমন, সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।দোয়া পরিচালনা করেন জেলা ওলামা দলের সভাপতি গোলাম রব্বানী।