শেরপুরে এক কিশোরীকে (১৩) অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় জনৈক বাবুল কবিরাজ (৩১) কে ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামির ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল কবিরাজ সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত তৈমদ্দিনের ছেলে। আসামি বাবুলকে ৪৪ বছরের মধ্যে অপহরণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ৭ এ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ধর্ষণের অপরাধ আইনের সংস্লিষ্ট ৯ (১) ধারায় যাবজ্জীবন (৩০) বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সেইসাথে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা হিসাবে তার ভরণ-পোষণে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায় সাপেক্ষে ওই আইনানুগ ব্যাবস্থার আদেশ দেন ট্রাইবুন্যাল।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম উপজেলার চরশেরপুর সাতানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩) ছিল। প্রতিবেশী বাবুল কবিরাজ ২০১৮ সালের ১৯এপ্রিল তাকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে নিয়ে আটকে রেখে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বাবুল তাকে ঢাকায় রেখে পালিয়ে আসে।
এ ঘটনায় একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ধর্ষক বাবুল সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ধর্ষক বাবুল। এর কিছুদিন পর ওই কিশোরীর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয় ওই সন্তানের পিতা বাবুল ।
তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১২ নভেম্বর বাবুলকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে বাদী, ভিকটিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৭ জন এবং আসামিপক্ষের দুইজন সাফাই সাক্ষীসহ ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার বিকেলে দুটি ধারায় বাবুলকে মোট ৪৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড সহ অপরাপর দণ্ড দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু।এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াতউল্লাহ তারা বলেন, রায়ে যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।