শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার চাঞ্চল্যকর প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্র রুবেল (১৭) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই জামালপুর। রুবেল উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দুলী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে এবং পাইকুড়া এআরপি উচ্চ বিদ্যালের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনের মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ সেপ্টেম্বর সকালে আসামি সোহেলকে (১৯) তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করাছে পিবিআই।
সোহেল উপজেলার পাইকুড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবর এর ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম.এম সালাহ উদ্দীন জানান আইপিএল জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে।
আটক সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রুবেল (১৭), সোহেল(১৯), সোহরাবসহ(২০) একটি চক্র উপজেলার পাইকুড়া বাজারে নিয়মিত আইপিএল জুয়া খেলতো। ইতিপূর্বে জুয়ার টাকা নিয়ে সোহেল ও তার খালাতো ভাই সোহরাবের সাথে রুবেলের ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে ১৯ আগস্ট বিকালে সোহরাব ফোন করে রুবেলকে পাইকুড়া বাজারে ডেকে আনে।
ওইদিন তারা ৩ জন একসাথে বিভিন্ন স্থানে ঘুড়াঘুড়ি করে এবং মাছ ধরার কথা বলে রুবেলকে কানি বিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সোহরাব ও সোহেল পিছন থেকে রুবেলকে ঝাপটে ধরে উপুর করে কাঁদা পানিতে ফেলে মাথা কাঁদায় চেপে ধরে হত্যা করে। জানা গেছে রুবেল ১৯ আগষ্ট সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় কাওকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে পাইকুড়া বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
প্রতিবন্ধী কিশোর রুবেল মাঝে মধ্যেই কাউকে না জানিয়ে বিভিন্ন সময় দু-তিন দিনের জন্য বাড়ির বাইরে চলে যেত। তাই তারা রুবেলকে প্রথমে খোঁজ করেননি। চার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও রুবেল ফিরে না আসায় খোঁজাখুজি করা হয়। এদিকে রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
বহু খোঁজাখুজি করেও সন্ধান না পেয়ে রুবেলের পিতা নূরুল হক গত ২৫ আগষ্ট ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন, যাহার নম্বর-১০৩২। থানায় ডায়েরির পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান রুবেলের সন্ধান পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এবং বিভিন্ন পত্রিকায় এনিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে এসে গত ৬সেপ্টেম্বর নিখোঁজের ১৮ তম দিনে রুবেলের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী থানা পুলি। এদিন ঝিনাইগাতী সদর উপজেলার পাইকুড়া কানিবিলে ফুলু মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশের ব্রীজের পূবে মকছেদের বাড়ীর উত্তর দিকে কচুরিপানার নীচ থেকে রুবেলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী সার্কলের সার্কল অফিসার সিনিয়র এএসপি আফরোজা নাজনীন এবং সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরদিন ঐ স্থান থেকেই রুবেলের মাথার খুলি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এদিকে ৮সেপ্টেম্বর রাতে চাঞ্চল্যকর এই অজ্ঞাত হত্যা রহস্য উদঘাটনে থানাপুলিশ ও সিআইডি যৌথ অভিযান পরিচালনার করে।
পাশাপাশি পিবিআই জামালপুরের অভিযানে রুবেলের ব্যবহৃত বন্ধ মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উন্মোচন হওয়ায় ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং থানা পুলিশকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।