Dhaka 7:55 am, Monday, 15 June 2026

‘পরকীয়ার জেরে’স্ত্রী-ছেলেকে হত্যা করে বিদেশ ফেরত হারুন

পরকীয়ার প্রেমে পারিবারিক কলহের জের ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার স্বামী হারুন ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোররাতে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মুসলিমা আক্তার শিখা মাদারগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ শেখের মেয়ে।

মাদারগঞ্জের গুনারিতলা ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের বিএডিসির সাবেক মেকানিক্স মো. ফজলুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ পলাশ বেশ কিছুদিন বিদেশে ছিলেন।

বিদেশ থেকে ফিরে এসে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারের থানা মোড়ে স-মিল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি স-মিলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বাড়িতেই মুরগির খামার দেন।

এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের বাবা হারুন রশিদ পলাশ ওই স-মিলের ব্যবসা করার সময় পার্শ্ববর্তী রোজিনা আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্ত্রী মুসলিমার সঙ্গে তার পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

সেই কলহের জের ধরে বুধবার ভোররাতে হারুন তার স্ত্রী মুসলিমা (৩৮) ও তিন বছরের ছেলে তাওহিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রতিবেশীরা রাতেই এ ঘটনা আঁচ করতে পেরে মাদারগঞ্জ থানায় খবর দেন।

পুলিশ বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে নিহত মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। ওইদিন সকালেই জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

পরে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হারুন অর রশিদ পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি, রক্তমাখা একটি লুঙ্গি, বিছানার চাদর ও মাছ ধরার জাল আলামত হিসেবে জব্দ করে।

নিহত মুসলিমা আক্তারের ছোট ভাই মো. খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, মুসলিমার স্বামী হারুন অর রশিদ পলাশের পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে এবং এই হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়িও জড়িত রয়েছে। এদিকে বুধবার বিকালেই নিহত মুসলিমা আক্তার ও শিশু তওহিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার জানান, পরকীয়ার প্রেমের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আজ অভিযুক্ত পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনাকে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আশা করছি অভিযুক্তরা আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করবে। না হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

‘পরকীয়ার জেরে’স্ত্রী-ছেলেকে হত্যা করে বিদেশ ফেরত হারুন

আপডেটের সময় : 08:43:38 pm, Thursday, 27 August 2020

পরকীয়ার প্রেমে পারিবারিক কলহের জের ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার স্বামী হারুন ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোররাতে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মুসলিমা আক্তার শিখা মাদারগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ শেখের মেয়ে।

মাদারগঞ্জের গুনারিতলা ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের বিএডিসির সাবেক মেকানিক্স মো. ফজলুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ পলাশ বেশ কিছুদিন বিদেশে ছিলেন।

বিদেশ থেকে ফিরে এসে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারের থানা মোড়ে স-মিল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি স-মিলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বাড়িতেই মুরগির খামার দেন।

এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের বাবা হারুন রশিদ পলাশ ওই স-মিলের ব্যবসা করার সময় পার্শ্ববর্তী রোজিনা আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্ত্রী মুসলিমার সঙ্গে তার পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

সেই কলহের জের ধরে বুধবার ভোররাতে হারুন তার স্ত্রী মুসলিমা (৩৮) ও তিন বছরের ছেলে তাওহিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রতিবেশীরা রাতেই এ ঘটনা আঁচ করতে পেরে মাদারগঞ্জ থানায় খবর দেন।

পুলিশ বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে নিহত মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। ওইদিন সকালেই জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

পরে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হারুন অর রশিদ পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি, রক্তমাখা একটি লুঙ্গি, বিছানার চাদর ও মাছ ধরার জাল আলামত হিসেবে জব্দ করে।

নিহত মুসলিমা আক্তারের ছোট ভাই মো. খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, মুসলিমার স্বামী হারুন অর রশিদ পলাশের পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে এবং এই হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়িও জড়িত রয়েছে। এদিকে বুধবার বিকালেই নিহত মুসলিমা আক্তার ও শিশু তওহিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার জানান, পরকীয়ার প্রেমের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আজ অভিযুক্ত পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনাকে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আশা করছি অভিযুক্তরা আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করবে। না হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।